হারাম টাকায় জমি কিনে দান করলেই কি হালাল হয়ে যাবে?

হারাম টাকায় জমি কিনে দান করলেই কি হালাল হয়ে যাবে?

ছবিঃ সংগৃহীত।

অবৈধ উপার্জনের অর্থ দিয়ে জমি কেনার পর সমপরিমাণ টাকা দান করলেই জমি হালাল হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে অর্থের উৎস এবং প্রকৃত মালিক কে, তার ওপর নির্ভর করে করণীয় নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন ইসলামি ফতোয়াবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলেমরা।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কারও কাছ থেকে চুরি, প্রতারণা বা আত্মসাতের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হলে প্রথম দায়িত্ব হলো প্রকৃত মালিককে সেই অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া। ওই টাকা দিয়ে জমি কেনা হলেও মালিকের পাওনা পরিশোধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।

জামিয়া উলুম ইসলামিয়া, বিন্নুরি টাউনের দারুল ইফতার এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, অর্থের প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা গেলে তাঁকে টাকা ফেরত দিতে হবে। তিনি মারা গেলে তাঁর উত্তরাধিকারীদের কাছে তা পৌঁছে দিতে হবে। তবে মালিক বা তাঁর উত্তরাধিকারীদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব না হলে সমপরিমাণ অর্থ দরিদ্রদের মধ্যে সদকা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণ দানের মতো সওয়াবের নিয়ত নয়, বরং অবৈধ সম্পদের দায় থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে হবে।

অন্যদিকে, সুদ, জুয়া কিংবা নিষিদ্ধ কোনো কাজের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের বিধান কিছুটা ভিন্ন। এ ধরনের অর্থ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার না করে দরিদ্রদের সহায়তা বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার কথা বলেছেন আলেমরা। তবে অর্থের উৎস ও পরিস্থিতি অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তাই হারাম অর্থ দিয়ে জমি কেনার পর সমপরিমাণ টাকা দান করলেই জমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালাল হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। অর্থের দায় নিষ্পত্তির পর জমির মালিকানা ও তা থেকে অর্জিত আয়ের বিধানও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করতে হবে।

এ ছাড়া অবৈধ উপার্জনের পথ থেকে ফিরে আসা এবং অতীতের অন্যায়ের জন্য আন্তরিকভাবে তওবা করাও জরুরি।