মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন কবে? জানাল যুক্তরাষ্ট্র
ছবিঃ সংগৃহীত।
ভেনেজুয়েলায় আগামী বছর নির্বাচন আয়োজনকে ‘আদর্শ সময়’ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর আগে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়তা করছে ওয়াশিংটন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন হবে—এমন নিশ্চয়তা দিতে রাজি নন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন রুবিও।
সাক্ষাৎকারে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কাউন্সিল পুনর্গঠন, নিরাপত্তা বাহিনীতে সংস্কার এবং জাতীয় ঋণ পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
রুবিও বলেন, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে মানুষ সন্তুষ্ট হবে।’
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট পুনর্গঠনের আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নতুন নির্বাচন কাউন্সিলের সদস্য নিয়োগ নিয়ে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর।
ভেনেজুয়েলায় ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রুবিও। তার মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো দেশ পরিচালনা করতে হলে নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দেশ পরিচালনার জন্য তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির বিপুল ঋণ। রুবিওর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
এই ঋণ পুনর্গঠন না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও ঋণ পুনর্গঠন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঋণ পুনর্গঠন না হলে পাওনাদাররা ভেনেজুয়েলার সম্পদ জব্দ করার উদ্যোগ নিতে পারেন।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পক্ষেও মত দিয়েছেন রুবিও। এ ক্ষেত্রে দেশটিতে দায়িত্ব পালনরত মার্কিন সেনাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়লে ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর সক্ষমতাও উন্নত হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তাঁর প্রশাসন ভেনেজুয়েলা ও দেশটির তেলসম্পদের পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
এর দুই দিন পর, ৫ জানুয়ারি দেশটির তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতীয় পরিষদের সামনে শপথ নিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।