এক বিছানায় শুয়েই ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ!

এক বিছানায় শুয়েই ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ!

ছবিঃ সংগৃহীত।

সাধারণত এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে সীমান্ত পার হতে হয়, দেখতে হয় সাইনবোর্ড কিংবা চেকপয়েন্ট। তবে জুরা পর্বতমালার কোলে অবস্থিত ছোট্ট এক হোটেলে ঘটনা একদম ভিন্ন। এখানে আপনি প্রাতঃরাশের টেবিলে যাওয়ার পথেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেন কিংবা রাতে এমন এক বিছানায় ঘুমাতে পারেন, যার ঠিক মাঝখান দিয়ে চলে গেছে দুই দেশের সীমানা!

অদ্ভুত এই হোটেলের নাম হোটেল আরবেজ। ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের সীমান্তে লা কিউর গ্রামে এটি অবস্থিত। পরিবার পরিচালিত এই পাহাড়ি হোটেলের ভেতর দিয়ে সরাসরি চলে গেছে ফরাসি-সুইস সীমান্ত। এর খাবার ঘর, সিঁড়ি এবং বেশ কয়েকটি অতিথিকক্ষের ঠিক মাঝামাঝি অবস্থান করছে এই সীমানা রেখা। অর্থাৎ একই ঘরে থেকে এবং ভবন না ছেড়েই আপনি একই সঙ্গে দুই দেশে অবস্থান করতে পারবেন।

প্রায় ১০টি কক্ষ এবং ফরাসি ও সুইস উভয় ঐতিহ্যের খাবারের সমন্বয়ে গঠিত একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে এতে। তবে কৃত্রিম কোনও পর্যটন আকর্ষণ নয়, এটি পুরোদস্তুর একটি সচল আল্পাইন হোটেল।

এই অদ্ভুত ব্যবস্থার সূচনা ১৮৬০-এর দশকে ট্রিটি অব ড্যাপেস চুক্তির মাধ্যমে। দুই দেশ সীমান্ত পুনর্নির্ধারণের আগেই পনথুস নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী পরিকল্পিত সীমানা রেখার ওপর এই ভবনটি তৈরি করেন। চুক্তি অনুযায়ী আগের ভবনগুলো বহাল রাখার সুযোগ থাকায় ভবনটি স্বস্থানে থেকে যায়। পনথুস এর একপাশে দোকান ও অন্যপাশে বার চালু করেন। বহু বছর পর ঝুলস-জোসেফ আরবেজ এটিকে হোটেলে রূপান্তরিত করেন, যার নাম আজও বহাল রয়েছে।

পরবর্তীকালে ১৯৫৮ সালে ম্যাক্স আরবেজ মজা করে ভবনটিকে আর্বেজি নামে এক অতিক্ষুদ্র রাষ্ট্র হিসেবেও ঘোষণা করেছিলেন। গ্রীষ্মে ট্র্যাকার এবং শীতকালে স্কি প্রেমীদের জন্য জুরা পর্বতমালার এই হোটেলটি অবস্থানগত দিক থেকেও দারুণ জনপ্রিয়। দরজা না খুলেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে হেঁটে যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা সত্যিই দুর্লভ।

সূত্র: এনডিটিভি