রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অবশেষে আফগানিস্তানের সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল নিজেদের দখলে নিয়েছে আফগানিস্তানের সশস্ত্র এবং সাবেক শাসক গোষ্ঠী তালেবান।
আফগানিস্তা
এক বিধ্বংসী সামরিক অভিযানে ২০০১ সালে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গত ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্ররা। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে।
আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লশকরগাহ দখল করে নিয়েছে তালেবান। দুই সপ্তাহের বেশি সময় সংঘর্ষের পর শুক্রবার শহরটি দখলের মাধ্যমে সশস্ত্র সংগঠনটির যোদ্ধাদের হাতে ত্রয়োদশতম প্রাদেশিক রাজধানীর পতন হলো।
আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার এবং তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে তালেবান।
তালেবান বাহিনী আফগানিস্তানের গজনি নগরী দখল করে নিয়েছে। এটা হলো এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া দশম প্রাদেশিক রাজধানী। এছাড়া কান্দাহারের কারাগারেও তারা ঢুকে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তালেবান এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানের এক চতুর্থাংশের বেশি এলাকা জয় করার প্রেক্ষাপটে ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী কাবুল বিজয় সম্পন্ন করতে পারে।
আফগনিস্তানে আরো একটি প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নিল তালেবান বাহিনী। তারা মঙ্গলবার রাতে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় ফাইজাবাদ শহর দখলে নিয়েছে।
আফগানিস্তানের সশস্ত্র সংগঠন তালেবান দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ সামানগানের রাজধানী আইবাক দখল করে নিয়েছে। সোমবার শহরটি দখলের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠ প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে আইবাক তালেবানের নিয়ন্ত্রণে এলো।
তালেবান বাহিনী কুন্দুজ দখল করার কথা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে তারা তিন দিনের মধ্যে আফগানিস্তানের তৃতীয় প্রাদেশিক রাজধানী জয় সম্পন্ন করল।তালেবান রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা নগরীর পুলিশ সদরদফতর, গভর্নরের কম্পউন্ড ও কারাগার দখল করেছে।
আফগানিস্তানে বিমান হামলায় ২০০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যার দিকে বি-৫২ জঙ্গি বিমান দিয়ে তালেবান লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয় বলে জানায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের