দেশে চালের দাম বাড়লেও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আমদানির অনুমতি সীমিত রাখার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। কমিশনের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে শুল্ক ছাড়ে চাল আমদানি চালু থাকলে স্থানীয় উৎপাদন নিরুৎসাহিত হয়ে কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়বেন।
চাল আমদানি
দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টানতে সরকার আমদানির অনুমতি দেওয়ায় চার মাস পর আবারও বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর চলতি মাসের ১২ আগস্ট থেকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। চাল আমদানিতে শুল্ক ৬৩.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
চাঁপাইনবাবঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে দুই দিনে ভারত থেকে ৩০০ টন চাল আমদানি করা হয়েছে।
বেনাপোল দিয়ে গত চার মাসে ভারত থেকে ১৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১৭ নভেম্বর থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত এই চাল আমদানি করা হয়েছে।
দেশের বাজারে দাম স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে চাল আমদানি বেড়েছে। প্রতিদিন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৩০-৩৫ ট্রাকে আমদানি হয় চাল।
পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১০০ মেট্রিক টন আতপ চাল বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভারত থেকে আরও ছয় ট্রাক (১০০ মেট্রিক টন) চাল আমদানি হয়েছে।
দীর্ঘ ১ বছর ১০ মাস পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। শুল্ক প্রত্যাহারের পর সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় দুইটি ট্রাকে ৯০ টন (৮৫০ কেজি) চালবোঝাই ট্রাক হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। মেসার্স শাইরাম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এসব চাল আমদানি করছে।
বাজারে চালের সরবরাহ বৃদ্ধি করে দেশের চালের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো হয়েছে। রোববার (২০ অক্টোবর) এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।