কোভ্যাক্সের আওতায় চীন থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া সিনোফার্মের আরও ১৭ লাখ টিকা বাংলাদেশে আসছে। বেইজিং থেকে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে টিকা নিয়ে একটি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে।
ডোজ
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের হাত থেকে সুরক্ষায় দরিদ্র দেশগুলোর যেসব লোক দুই ডোজ করে টিকা পেয়েছেন, তারা নিজেদের ভাগ্যবান ভাবতেই পারেন! কারণ বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। এ ধরনের দেশগুলোতে এক ডোজ টিকা পাওয়া মানুষের সংখ্যাও খুবই কম। দরিদ্র বিশ্ব এভাবে যখন করোনা টিকার স্বাভাবিক দুই ডোজ পেতেই হিমশিম খাচ্ছে, তখন ধনী দেশগুলো বুস্টার হিসেবে তৃতীয় ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে।
ঢাকার সব জেলা ও মহানগরে আগামীকাল সোমবার থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় টিকার ডোজ প্রয়োগ শুরু হবে। এছাড়া আগমী ৭ আগস্ট দেশের সকল কেন্দ্রে এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু হবে।
জাপানের কাছ থেকে টিকা প্রাপ্তির ফলে দ্বিতীয় ডোজের চিন্তা দূর হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আগামী দু’একদিনের মধ্যেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া শুরু হবে।
বিশ্বের কয়েকটি দেশে এখন করোনাভাইরাসের টিকার মিশ্র ডোজ নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও এ নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সরকারের কাছে এখন সিনোফার্ম, মর্ডানা এবং ফাইজারের ৫৭ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে।
কোভিডের সুরক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের টিকা নিলে সেটা এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় বেশি কাজ করে বলে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। কম-কোভ ট্রায়াল নামের এই গবেষণায় দেখা হয়েছে যে, ফাইজার বা অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুইটি করে ডোজে কোভিড-১৯ সুরক্ষায় বেশি কাজ করছে নাকি এই দুই টিকার সংমিশ্রণে?
দেশে এ পর্যন্ত সাড়ে ৩৭ লক্ষাধিক মানুষ করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন। টিকার এই ডোজ গ্রহণকারীর সংখ্যা ৩৭ লাখ ৫৭ হাজার ২৩ জন
আগামীকাল সোমবার থেকে করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজের টিকাদান কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
দেশে এ পর্যন্ত ১৫ লক্ষাধিক মানুষ করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন। টিকার এই ডোজ গ্রহণকারীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৭ হাজার ২৮৭। এরমধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৮ হাজার ৯৬০ এবং নারী ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৭ জন।
যশোরে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান কার্যক্রম। আজ সকাল ৮টায় সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন যশোর জেনারেল হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রম শুরু করেন।