ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ১৩ দিন পর পুরনো এলসির টেন্ডার করা ২৯ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করেছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গত তিনদিনে ৪৭০ টন পেঁয়াজ ঢুকেছে।
পেঁয়াজ আমদানি
বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংস্থা এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম সরবরাহ চেইন ও মূল্য স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনে বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানির পরামর্শ দিয়েছেন।
ভারতে দাম বৃদ্ধি ও নতুন করে ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো চাহিদা মতো এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) না দেওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কমেছে।
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও পেঁয়াজের দাম কমেনি খুচরা বাজারে। বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
গত শনিবার থেকে হঠাৎ করেই ভারত সরকার বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন করে ৪০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে। এরফলে আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। পরে নতুন শুল্ক দেওয়া হলে আমদানি শুরু হয়।
ভারত থেকে প্রতিদিন পেঁয়াজ আমদানি বাড়ছে। গত ১০ দিনে দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৫৯ হাজার টন।
পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির ঘোষণায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এই মসলাজাতীয় পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। গত রবিবার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পরের দিন গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, ঢাকার শ্যামবাজারসহ বড় বড় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। এক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম কমেছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।
বাজারে অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হবে। সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবসহ সকল ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
দাম না কমলে ভারত থেকে ফের পেঁয়াজ আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ সময় ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দাম আমলে না নেয়ায় অসন্তোষও প্রকাশ করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, রমজানের শুরুতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে বাজার কেনে তাই কিছুটা বাজার ঊর্ধ্বগতি হয়, তবে তা ক্রমান্বয়ে কমে এসেছে। দাম কমায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শিথিল করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা মূল্য পায়।