মুসলিম ফুটবল সুপারস্টার ও ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের তারকা খেলোয়াড় মেসুত ওজিল ২০২০ সালের পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বড় অঙ্কের সহযোগিতা করেছেন
রমজান
মানুষ আল্লাহ তা’য়ালার সৃষ্ট সেরা জীব। তার হাতেই সকলের জীবন-মরণ। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে তিনিই সব কিছুর প্রধান নিয়ন্ত্রক। সব ক্ষমতা তাঁরই হাতে। মানব জাতির পথনির্দেশিকা হিসেবে তিনি অসংখ্য বিধি-বিধান তাঁর ঐশী গ্রন্থ আল কুরআনে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দেয়া এসকল বিধি-বিধান মেনে চলার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত শান্তি ও সফলতা।
রমাদানের অনালোচিত একটি পরিচয়- এটি বিজয়ের মাস। মুসলিম উম্মাহর বিজয়ের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ১২টি এসেছে এ মাসে। তন্মধ্যে- বদর ১৭ রমাদান ২হি, মক্কা বিজয় ২৩ রমাদান ৮হি, খন্দক ও তাবুক যুদ্ধের সূচনাও ছিল রমাদানে, তারিক বিন যিয়াদ র.-এর স্পেন (আন্দালুস) বিজয় ২৮ রমাদান ৯৩হি, মুহাম্মাদ বিন কাশিম-এর সিন্ধু বিজয় ২০ রমাদান ৯৪হি, সালাউদ্দীন আইউবী র.-এর জেরুজালেম বিজয়, হিত্তিন-এর যুদ্ধ রমাদান ৫৮৩হি, আইনজালুতের যুদ্ধ ২৫ রমাদান ৬৫৮হি: ইত্যাদি। অবশ্য ১৪৫৩ খ্রি অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ কর্তৃক কনস্টান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) বিজয়ের পর উম্মাহর জীবনে আর কোনো বিজয় আসেনি।
মানুষ রমাদানের কল্যাণবঞ্চিত হয় তখনই, যখন মনোদৈহিক সত্ত্বা হয়েও সে কেবল খাদ্য ও পানীয় পরিত্যাগে সিয়াম সাধনা করে। হৃদয়-মনকে বাদ দিয়ে কেবল শরীরের যত্ন নিলেতো নিজ সত্ত্বাকেই অস্বীকার করা হয়, তাতে মানবমর্যাদা ভুলুন্ঠিত হয়। অথচ সিয়ামের বিধানতো
ও আমার রব! ও আমার জীবন-মৃত্যুর মালিক ! আমি ভালো করেই জানি, তুমি একান্ত দয়ায় আবারও একটি রহমতঘেরা ইবাদাতের বসন্ত উপহার দিলে। দুনিয়াজুড়ে মৃত্যুর মিছিলে বনি আদমের অংশগ্রহণ যখন বেড়েই চলেছে, ঠিক তখনও আমি, আমার পরিবার, বন্ধু-স্বজন নিয়ে বেঁচে থাকাটা তোমার কত বড় দয়া (!)
ইবাদাতের বসন্তকাল রমাদান। রহমানী চাদরে ঢাকা এ মেহমান আমার হৃদয়-মনকে কতটা আবিষ্ট করেছে? এটিতো একটি সময়কাল মাত্র।এখানে রয়েছে দু‘টি মৌলিক উপহার- একটি কুরআন অন্যটি সিয়াম’।
বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মুসলমানের পবিত্রতম রমজান মাস শুরু হচ্ছে, কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের যে ধরণের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রোজা পালন করতে হবে, তার নজীর ইতিহাসে বিরল।
রমজান মাসে ৫০ হাজার টন তেল মজুত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
রোজা রাখা বা সিয়ামের উদ্দেশ্য হলো, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নিজেদের কামনা-বাসনা নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরহেজগারি বা তাকওয়া বৃদ্ধি করা।
চারিত্রিক মাহাত্ম্য, নৈতিক পরিচ্ছন্নতা, চিন্তার বিশুদ্ধতা, আত্মিক পবিত্রতা এবং আল্লার নৈকট্যলাভের অন্যতম মাধ্যম হলো রোজা। সিয়াম সাধনায় মানুষের ঈমান দৃঢ় হয়। তাকওয়া বা খোদাভীতি- যেমন গুনাহর কাজ করে রোজা নষ্ট করা থেকে রোজাদারের অন্তরকে পাহারা দিয়ে থাকে ....