দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ডলার সংকট। এখান থেকে উত্তরণের প্রধান উপায় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানো। কিন্তু সেখানে নেই সুসংবাদ।
রিজার্ভ
রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা-ডলার অদলবদল (সোয়াপ) সুবিধা চালুর ফলে এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে।
পাঁচ দিনের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ৭২৭ মিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে কারেন্সি সোয়াপ বা মুদ্রার অদলবদলের সুবাদে গতকাল সোমবার (৪ মার্চ) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১.৩ বিলিয়ন ডলারে।
দুই সপ্তাহ ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়াল দুই হাজার ১৯ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার ডলার বা ২০ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে।
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গত বেশ কয়েকমাস যাবত বলে আসছেন যে বাংলাদেশ রিজার্ভ সংকটে পড়লে চীন পাশে দাঁড়াবে।
মাত্র এক সপ্তাহে আরও ১৪ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার ডলার রিজার্ভ কমেছে। যার মাধ্যমে দেশে বর্তমান রিজার্ভ গিয়ে দাঁড়াল ২০ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম) বা দুই হাজার ৩ কোটি ৪০ হাজার ৯০ হাজার ডলার।
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের আমদানি বিল বাবদ ১২৭ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংকট মেটাতে বাজারে প্রতিদিনিই ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পিছিয়েছে। এ নিয়ে ৭৬ বারের মতো তারিখ পেছাল।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সহ বিভিন্ন আর্থিক সহযোগী সংস্থার ঋণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ২১ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, রিজার্ভ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রিজার্ভ ভালো আছে। দেশের অর্থনীতি ভালো রয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে সেটি প্রমাণ হয়েছে।