ইরান যুদ্ধ বন্ধে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে করার প্রস্তাব দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নাম পরিবর্তনের চেয়ে যুদ্ধ বন্ধ করাই প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
হরমুজ প্রণালি
ইরানের হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল গত ১০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সেখানে প্রায় ৬ হাজার নাবিকসহ ৪০০টি জাহাজ আটকা পড়েছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ইরানের অবস্থান জানতে চেয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ইরান দ্রুতই তাদের শর্তের তালিকা জমা দেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধের শর্তে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সদ্যঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
চ্যানেল আল এরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি তেহরান সফরকালে ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাবটি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন।
আবারও হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্যাংকার বহরে হামলার জেরে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর হরমুজ প্রণালি থেকে পুনরায় তেল বোঝাই কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি আরবের শীর্ষ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকো। গত সপ্তাহ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে আরও বেশ কয়েকটি ট্যাংকার তেল নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে কোনো শক্তি সামরিকভাবে এগিয়ে এলে তারা পরাজিত হবে।
শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।