বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে গৌরবময় ইতিহাস স্বাক্ষী হয় নরওয়ে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়দের হারানো ম্যাচে জোড়া গোল করেন আর্লিং হালান্ড। এরপর থেকে এই স্ট্রাইকারকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে নতুন করে উন্মদনা শুরু হয়েছে।
হালান্ড
মাঠে যখন বল পায়ে তিনি ছোটেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বুকে কাঁপন ধরে যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে গোলবন্যার রেকর্ড থেকে শুরু করে ক্লাব ফুটবলের সব ট্রফি—সবখানেই এখন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ডের জয়জয়কার।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল নরওয়ে। রাউন্ড অব ৩২ এর লড়াইয়ে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি।
লিওনেল মেসি মাঠে নামলেই যেন নতুন কোনো কীর্তি গড়ে ওঠে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে অসাধারণ এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৯ গোলের রেকর্ডও এখন তার দখলে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে বিরতির পর ম্যাচে ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পরপরই পেনাল্টি আদায় করে দলটি।
এবারের আগে নরওয়ে বিশ্বকাপই খেলেছে মোটে ৩ বার। তাদের সবশেষ নকআউটে খেলার নজির দেখা গিয়েছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপে।
দীর্ঘ ২৬ বছরের এক দীর্ঘশ্বাস আর আক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে জায়গা করে নিল নরওয়ে। ২০০০ সালের ইউরোর পর থেকে কোনো বড় টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি দলটি। আর বিশ্বকাপের হিসাব করলে তো সেই ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স আসর। নরওয়ের ফুটবলের এই দীর্ঘ খরা কাটার পেছনে প্রধান নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
আর্লিং হালান্ড নেই, তাতে কী? দলের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় তারকার অভাব একদমই টের পায়নি ম্যানসিটি।
জাতীয় দল কিংবা ক্লাব—দুই জার্সিতেই বছরজুড়ে গোলের পর গোল করেছেন। নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটিতে সমানতালে গোল উৎসব করে ক্যারিয়ারে পেলেন আরেকটি স্বীকৃতি। টানা ছয়বার নরওয়ের বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়ে ‘হেক্সা’ পূরণ করলেন তারকা এই ফরোয়ার্ড।