আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শ্রমবাজার
মরিশাসে বন্ধ থাকা বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশ দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার পুনরায় সচল করতে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া রুট দ্রুত সময়ের মধ্যে খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের মোট অভিবাসীর সর্বোচ্চ ৬৭ শতাংশই যায় সৌদি আরবে। সে হিসেবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অর্ধেকের বেশি যায় শুধু এই দেশটিতে। শ্রমবাজারের দ্বিতীয় স্থানে কাতার, চতুর্থ কুয়েত, ষষ্ঠ আরব আমিরাত এবং সপ্তম স্থানে জর্ডান। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের শুরু হওয়া যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ড্রোন হামলা লন্ডভন্ড করে দিয়েছে শ্রমবাজার।
দেশে গত পাঁচ বছর ধরে একই জায়গায় আটকে আছে দক্ষ শ্রমিকের হার। এতে বাংলাদেশি শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হয়ে পড়ছে। দক্ষ শ্রমিকের অভাবে এমন চাহিদার অন্য কোনো দেশের শ্রমবাজারে জায়গা করে নিতে পারছে না বাংলাদেশ। এতে অধরাই থেকে যাচ্ছে নতুন শ্রমবাজার। ফলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত হলো অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আমাদের অভিবাসী কর্মীরা বিদেশে গিয়ে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেন। কষ্টার্জিত অর্থ পাঠান দেশে, তা দিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে।
বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা দ্রুত নিরসনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণকে মসৃণ ও টেকসই করতে গঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান উপদেষ্টা সভাপতিত্ব করেন।
এশিয়ার উন্নত দেশ জাপান শ্রম রপ্তানির উন্মুক্ত বিশাল বাজার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৬টি ক্যাটাগরিতে (সাধারণ শ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিকাজ ও কেয়ার গিভারসহ) দেশটিতে শ্রম রপ্তানির বিশাল সুযোগ রয়েছে।
এক বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ।