একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আধ্যাত্মিক উন্নতির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে সফল হতে চাইলে কিছু ইবাদতকে অভ্যাসে পরিণত করা জরুরি। এই কাজগুলো নিয়মিত করলে শুধু পরকালীন সওয়াব মেলে না, বরং মানসিকভাবে প্রশান্তি ও কাজে গতি ফিরে আসে।
ইসলাম
আমানতের অর্থ হলো বিশ্বস্ততা। কারো বিশ্বস্ততার ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিন্ত ও নির্ভয় হতে পারে। বিশ্বাসঘাতকতা না করা। পবিত্র কোরআনের আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে আমানতের এই সংজ্ঞাকে যথার্থ মনে হয়।
সুস্থতা, পবিত্রতা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইসলামে। যেখানে পৃথিবীর অনেক জাতি আধ্যাত্মিকতা অর্জনের নেশায় শারীরিক পরিচ্ছন্নতাকে উপেক্ষা করেছে, সেখানে ইসলাম দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বশর্ত হিসেবে শরীরের পবিত্রতাকে বাধ্যতামূলক করেছে।
মসজিদ মুসলিম সমাজের প্রাণকেন্দ্র। মদিনার মসজিদে নববী থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের। আর মসজিদের মিম্বার থেকে মুসলিম জাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন মহানবী (সা.) ও ইসলামের মহান চার খলিফা। তাই মুসলিম সমাজে মসজিদের ইমামের মর্যাদা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।
প্রশ্ন: হজ ফরজ হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে হজ পালন করতে বিলম্ব করলে কি গুনাহ হবে?
ইমানের পর ইসলামের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ। মুমিন এবং কাফেরের মাঝে বড় পার্থক্য হলো নামাজ।
পুণ্যের বসন্ত মাস মাহে রমজান। এ মহিমান্বিত মাস রমজান আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। রমজান বিদায় নেওয়ার পর সংযম ও সাধনার জীবন পরিহার করছে বহু মানুষ, ফিরে গেছে আগের গুনাহমাখা জীবনের দিকে। অথচ মাহে রমজানের দাবি হলো, পাপমুক্ত যে জীবনের অনুশীলন মুমিনরা রমজানে করেছিল, তা রমজানের পরও অব্যাহত থাকবে এবং আল্লাহমুখী, ইবাদতমুখর যে সময় সে কাটিয়েছিল, তাতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসবে না।
ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা একসময় ছিলেন ইসলামের কঠিন শত্রু, কিন্তু পরে আল্লাহ তাদের হৃদয় খুলে দিয়েছেন। আরবের বিখ্যাত কূটনীতিক, মিসর বিজয়ী আমর ইবনুল আস (রা.) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। আসলে আল্লাহ যখন কারো হেদায়েত চান, তখন শত্রুতাও পথ দেখায়। নিয়ে যায় হেদায়েতের সবুজ আঙিনায়।
মুসলিম উম্মাহর কাছে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবার বা জুমার দিন। এই দিনকে ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। জুমার নামাজের অন্যতম প্রধান এবং আবশ্যিক অংশ হলো খুতবা।
যাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান ও ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। সমাজের বিত্তশালীদের ওপর যাকাত আদায় ফরজ। যাকাত সম্পদ পবিত্র করে, বিত্তশালীদের পরিশুদ্ধ করে, দারিদ্র্য মোচন করে, উৎপাদন বৃদ্ধি করে, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে এবং সমাজে শান্তি আনে।
রমজান আমাদের জীবনে এসেছিল আত্মশুদ্ধির মহাস্নান ও রহমতের অন্তহীন অফার নিয়ে। এসেছিল হৃদয়ের ধুলো ঝেড়ে আলোর পথে ফেরার ডাক নিয়ে।
এক. মিতব্যয়ী হওয়া ও অপচয় বর্জন করা : ইসলাম আমাদের সব সময় মিতব্যয়ী হতে নির্দেশ করে। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের গুণ-বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আর তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং তাদের পন্থা হয় এ দুইয়ের মধ্যবর্তী (ভারসাম্যপূর্ণ) (সুরা ফুরকান)।’ দুঃখজনক বিষয় হলো, সাধারণ অবস্থায় আমরা মিতব্যয়ী হওয়ার কথা ভুলে যাই এবং সামর্থ্য আছে বলে খেয়ালখুশিমতো ব্যয় করি। সংকটকালে অনেকে ঠিকই মিতব্যয়ী হওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করি।
আজ শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২, ০৭ শাওয়াল ১৪৪৭।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—
ইসলাম আগমনের সময় পৃথিবীর প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি ছিল রোম ও পারস্য। রোমানরা ছিল খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী এবং তারা ইউরোপের গ্রিক, বলকান, সিসিলি ও ইতালির একাংশ, এশিয়ার তুরস্ক, শাম ও ফিলিস্তিন অঞ্চল এবং আফ্রিকার মিসর, লিবিয়া ও উত্তর আফ্রিকার একাংশ শাসন করত। অন্যদিকে পারস্য ছিল পৌত্তলিক ও অগ্নি উপাসকদের সাম্রাজ্য। তারা আধুনিক ইরান, ইরাক, ওমান, ইয়েমেন, বাহরাইন, সিরিয়ার একাংশ, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চল শাসন করত।
মানুষের জীবনে ভ্রমণ একটি অপরিহার্য অংশ। জীবিকা, শিক্ষা, দাওয়াত কিংবা প্রয়োজন; বিভিন্ন কারণে মানুষকে পথ ধরতে হয়। কিন্তু পথ সবসময় নিরাপদ নয়। অজানা ঝুঁকি, দুর্ঘটনা, দুষ্কৃতকারী, ক্লান্তি; সব মিলিয়ে ভ্রমণ একটি অনিশ্চিত অভিজ্ঞতা।
ইসলামি শরিয়তে রোজাদারকে ইফতার করানো অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আমল। রমজানে এই আমলটি বেশ গুরুত্বের সাথে পালন করা হলেও নফল রোজাদারকে ইফতার করানোর বিষয়টি অনেকের অগোচরেই থেকে যায়।