চতুর্থ কিস্তিতে সাড়ে ৬৪ কোটি ডলার দিচ্ছে আইএমএফ
ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে চলমান ঋণ কর্মসূচির অধীনে আরও ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ ছাড় করবে। আইএমএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তাই দেশটির অর্থনৈতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
আইএমএফের একটি দল ডিসেম্বরের ৩ তারিখ থেকে ঢাকায় অবস্থান করছে এবং বুধবার দলটির প্রধান, ক্রিস পাপজর্জিও, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে আইএমএফ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, তাদের নির্বাহী বোর্ড বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করবে। আইএমএফ আরও বলেছে, সময়মতো অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তবে, অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি খুবই ধীর এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৮ শতাংশে নেমে যেতে পারে, যার কারণ হতে পারে গণআন্দোলন, বন্যা এবং কঠোর নীতি। তবে ২০২৬ সালে এটি ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬.৭ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএমএফ তাদের ওয়েবসাইটে বুধবার সন্ধ্যায় এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এর আগে, ২০২৩ সালের জুনে আইএমএফ বাংলাদেশকে ১১৫ কোটি ডলার তৃতীয় কিস্তি ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছিল। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন পেয়েছিল আইএমএফ থেকে, যা সাতটি কিস্তিতে ঋণ হিসেবে দেয়া হবে।
আইএমএফ তখন জানিয়েছিল, এই ঋণের গড় সুদ হার হবে ২.২ শতাংশ এবং ঋণ পেতে বাংলাদেশকে কয়েকটি সংস্কার করতে হবে। এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে জ্বালানির খাতে ভর্তুকি কমানো, টাকার বিনিময় ব্যবস্থা বাজারের উপর ছেড়ে দেয়া, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, কর আদায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক মুদ্রানীতি তৈরি এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর করা। এসব সংস্কার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে আইএমএফ জানিয়েছে।