নতুন মহামারির শঙ্কা, এইচএমপিভি নিয়ে যা জানা জরুরি

নতুন মহামারির শঙ্কা, এইচএমপিভি নিয়ে যা জানা জরুরি

ফাইল ছবি

নতুন আতঙ্ক দ্য হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাসের (এইচএমপিভি) প্রাদুর্ভাব বেড়েছে চীন আর জাপানে। পাশের দেশ ভারতেও ধরা পড়েছে এই ভাইরাস। ইনফ্লুয়েঞ্জা ধাঁচের এই ভাইরাসটি করোনার মতোই ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এইচএমপিভি (hMPV) বা হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস একটি ভাইরাস যা প্রধানত মানুষের শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এটি শীতকাল এবং বসন্তকালে সাধারণত বেশি সক্রিয় থাকে এবং শিশু, বৃদ্ধ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে ভাইরাস শ্রেণি: এটি প্যারামাইক্সোভিরিডি (Paramyxoviridae) পরিবারের অন্তর্গত। রেসপিরেটরি সিনসাইটিয়াল ভাইরাস (RSV)-এর মতোই কার্যকলাপ দেখায়।

সংক্রমণের স্থান: শ্বাসতন্ত্রের উপরের এবং নিচের অংশ (নাক, গলা, শ্বাসনালি, ফুসফুস)।

বেশি ঝুঁকিতে যারা:

  • ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
  • ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বৃদ্ধ।
  • দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি।

এইচএমপিভি সংক্রমণের লক্ষণসমূহ

এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে হালকা থেকে গুরুতর লক্ষণ দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

হালকা লক্ষণ:

  • সর্দি
  • কাশি
  • গলা ব্যথা
  • জ্বর
  • নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া

গুরুতর লক্ষণ:

  • শ্বাসকষ্ট
  • দ্রুত শ্বাস নেয়া
  • ফুসফুসে সংক্রমণ (নিউমোনিয়া)
  • ব্রঙ্কিওলাইটিস (শ্বাসনালীর ক্ষুদ্র শাখায় প্রদাহ)

এইচএমপিভি কীভাবে ছড়ায়?

এইচএমপিভি ছোঁয়াচে ভাইরাস এবং এটি নিম্নলিখিত উপায়ে ছড়াতে পারে:

  • সংক্রামিত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়ায়।
  • ভাইরাস যুক্ত পৃষ্ঠ (যেমন টেবিল, দরজার হাতল) স্পর্শ করার পর চোখ, নাক বা মুখে হাত দিলে সংক্রমণ হতে পারে।
  • সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।
  • এইচএমপিভি শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা

পরীক্ষা:

  • নাসাল সোয়াব বা থ্রোট সোয়াব থেকে ভাইরাস শনাক্ত করা হয়।
  • RT-PCR টেস্ট ব্যবহার করে নিশ্চিত করা যায়।

চিকিৎসা:

  • এই ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই।
  • লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা (জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল, শ্বাসকষ্টের জন্য অক্সিজেন থেরাপি)।
  • হাইড্রেশন (শরীরে পানিশূন্যতা দূর করা)।

প্রতিরোধের উপায়

  • নিয়মিত হাত ধোয়া।
  • নাক-মুখ ঢেকে হাঁচি বা কাশি করা।
  • ভাইরাসযুক্ত পৃষ্ঠগুলো জীবাণুমুক্ত করা।
  • সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকা।
  • জনবহুল স্থানে মাস্ক ব্যবহার করা।

এইচএমপিভি একটি সাধারণ ভাইরাস হলেও গুরুতর ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব। যারা ঝুঁকির মধ্যে আছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।