ভালবাসা ও বসন্ত দিবসে বাজার ধরতে গোলাপে ক্যাপ; মূল্য হ্রাসে হতাশ কৃষক

ভালবাসা ও বসন্ত দিবসে বাজার ধরতে গোলাপে ক্যাপ; মূল্য হ্রাসে হতাশ কৃষক

ছবি: প্রতিনিধি

টিআই তারেক: যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা, মনিরামপুর, চৌগাছা, কেশবপুরসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়।
এর মধ্যে ঝিকরগাছায় উৎপাদিত ফুলের প্রায় ৭০ শতাংশ দেশব্যাপী সরবরাহ হয়ে থাকে। উপজেলার গদখালী ও পানিসারা ইউনিয়নে মাঠে মাঠে লাল গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গাদা, জারবেরা, জিপসি, চন্দ্র মল্লিকাসহ নানা ধরনের ফুল চাষ হচ্ছে।  

১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস এবং ১লা ফাল্গুন বসন্ত দিবসে গদখালী বাজারে বেশি ফুল বিক্রি হয়। এই দিবসে গোলাপের চাহিদা বেশি থাকে। তাই বেশি দাম পাবার আশায় গোলাপের কলিতে ক্যাপ লাগিয়েছেন কৃষক। ক্যাপ লাগালে গোলাপের পাপড়ী ঝরে পড়া রোধ করা যায়। ফুল তোলার নির্দিষ্ট সময়ের বেশি গাছে রেখে চাহিদামত বাজারজাত করা যায় বলে জানালেন কৃষকরা।


ক্যাপ লাগানো গোলাপ বাজারে এনেও আশানুরুপ দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক। বাজারে দেখা গেল- গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৬-৭টাকা পিচ। গেল বছর এই গোলাপের দাম কৃষক পেয়েছেন ২০-২৫ টাকা। কেউ কেউ ৩-৪টাকা দরে গোলাপ বিক্রি করছেন। জারবেরা শ’ ৪০০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
কৃষকরা বলছেন, এবার আমাদের ফুলের দাম একেবারেই কম। গতবারের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ দাম পাচ্ছি আমরা। ফুল বিক্রি করতে না পেরে ফেরত নিতেও দেখা গেছে।

সরাসরি ফুল কিনতে বাজারে আসতে দেখা যায় ঢাকা, খুলনাসহ দুর দুরান্তের ব্যবসায়ীদের। তবে ফুলের দাম নিয়ে বাজারের আড়ৎদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং গদখালী ফুলচাষী ও কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে কৃষকের কথার বিস্তর গরমিল পাওয়া যায়। 

গদখালী ফুলচাষী ও কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি মনজুরুল ইসলাম বলেন, বছরের এই সময়ে বিশেষ করে বিশ্ব ভালবাসা দিবস, বসন্ত দিবস ও ২১ শে ফেব্রæয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুল বিক্রি করে কৃষকরা বেশি দাম পান। কিন্তু ফুলের সরবরাহ বেশি থাকায় এবছর দাম একটু কম। তবে উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকদের পুশিয়ে যাবে বলে মত দেন তিনি।
তবে এবার ১৪ ফেব্রæয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস এবং পবিত্র শবে বরাত একই দিন হওয়ায় ফুল ব্যবসায় ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।