আমাদের লড়াই কোনো দল নয়, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে: আব্দুল হালিম

আমাদের লড়াই কোনো দল নয়, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে: আব্দুল হালিম

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, ‘আমাদের লড়াই কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নয়; আমাদের লড়াই দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং সংখ্যালঘুদের জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে।’

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব মাঠে শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সদর-১ আসনের তরুণদের নিয়ে আয়োজিত যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু রয়েছে, যেখানে প্রতিহিংসা, বিভাজন ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামের লক্ষ্য এসব অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি সৎ, ন্যায়ভিত্তিক ও জনগণের বাংলাদেশ গড়া।’

মাওলানা আব্দুল হালিম আরও বলেন, ‘‘গণঅভ্যর্থনায় তরুণরা স্লোগান দিয়েছে—‘তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার।’ এই স্লোগানের প্রকৃত অর্থ হলো নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সব দল ও মতের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে বিভাজন সৃষ্টি করে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু জনগণের ঐক্যের কারণে সেই ভারতীয় আধিপত্যবাদী আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে। আজকের যুবকরাই আগামীর নেতৃত্ব দেবে।’’

তিনি যোগ করেন, ‘আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না। সামনে জাতীয় নির্বাচন আসছে, যেখানে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা কারচুপি চলবে না। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ৮০ বছরের বৃদ্ধও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।’

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দেশের পরিবর্তনের মূল শক্তি হলো যুবসমাজ। দেশের সন্ত্রাসমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তোমরাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রকৃত কারিগর।’

সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন। তিনি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘বেকার যুবকদের স্বনির্ভর করে তুলতে আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়ুথ ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করব, যেখানে তরুণরা প্রশিক্ষণ পাবে এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারবে।’

 

দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ে তুলব। জনগণের পাশে থেকে আমরা এই দাবিগুলো পূরণের জন্য কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে কেউ পেশিশক্তি ব্যবহার করতে চাইলে, কালো টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইলে বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে যুবকরাই তার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না।’

নিরাপদ ঠাকুরগাঁও গড়ার অঙ্গীকার করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই তরুণরা আর কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হয়ে ব্যবহার না হয়। তাদের শক্তি উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সমাজ গঠনে কাজে লাগুক। তরুণদের নিয়ে আমরা আগামীর আধুনিক, সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলব।’

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, জেলা আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান, জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর, সহকারী সেক্রেটারি কফিল উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।