চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন সন্দ্বীপের বেলায়েত

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন সন্দ্বীপের বেলায়েত

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়, নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্ট্রাকচার প্ল্যান-১৯৯৫ অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ১৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সিডিএর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর সীমানা উত্তরে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া, দক্ষিণে সাঙ্গু নদী ও আনোয়ারা উপজেলা, পূর্বে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী এবং পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

১৯৮৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পেশাজীবী ও ঠিকাদার হিসেবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, চট্টগ্রামের পরিকল্পিত নগরায়ণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

এদিকে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তাঁর জন্মস্থান সন্দ্বীপে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা কর্মসূচির আয়োজন করেন। অনেকেই এ নিয়োগকে চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।