জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্রদের সহায়তা দ্বিগুণ, এক লাখ টাকা অনুদানের প্রস্তাব
ফাইল ছবি
ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব রোগে আক্রান্ত অসহায় মানুষের জন্য এককালীন অনুদান ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। বছরে একবার এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের এ সহায়তা দেওয়া হয়। অর্থের অভাবে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না, ফলে রোগীর পাশাপাশি তাদের পরিবারও মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করা হয়। এটি বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেট প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি দেন। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।