ফ্লোটিলায় ড্রোন হামলা হয়েছে নেতানিয়াহুর নির্দেশেই

ফ্লোটিলায় ড্রোন হামলা হয়েছে নেতানিয়াহুর নির্দেশেই

তিউনিসিয়ার সমুদ্রে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌবহর, ইনসেটে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

গত মাসের শুরুর দিকে তিউনিসিয়ায় গাজাগামী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌবহর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্দেশে এই হামলা হয় বলে এক তদন্তে উঠে এসেছে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা সিবিএসকে জানিয়েছে, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের ওই হামলাটি ইসরায়েলের একটি সাবমেরিন থেকে চালানো হয়। তাদের ভাষায়, এটি ছিল ‘একটি ইচ্ছাকৃত ও অপ্রয়োজনীয় উসকানি’। এই ঘটনা এমন সময়ে সংঘটিত হয়েছিল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধের সমাপ্তির প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কট্টর ইসরায়েলিদের দাবির বিপরীতে, ফ্লোটিলায় আগুন লাগার কারণ কোনো তুচ্ছ ঘটনা নয়।

এদিকে, শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা আগেই সন্দেহ করেছিল যে ইসরায়েলই হামলার পেছনে রয়েছে। যদিও এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

বিবৃতিতে তারা বলেছে, হামলায় ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলেও আমরা অবাক হয়নি। এটি কেবল দায়মুক্তি ও ঔদ্ধত্যের এক ভয়াবহ ধারা প্রকাশ করেছে তারা। এই হামলা বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকারীদের জীবন বিপন্ন করেছে। তারা হামলার বিষয়ে জরুরি, স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, ড্রোনটি তিউনিসিয়ার সিদি বু সাইদ বন্দরে নোঙর করা ফ্লোটিলার প্রধান জাহাজে আঘাত হানে। কাছের একটি নৌকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পর্তুগিজ পতাকাবাহী ‘ফ্যামিলি বোট’-এর সামনের ডেকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করছে।জাহাজে থাকা ছয়জন যাত্রী ও ক্রু অক্ষত থাকলেও আগুনে আংশিক ক্ষতি হয়। 

তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এলাকায় কোনো ড্রোন শনাক্ত করতে পারেনি।

ফ্যামিলি বোটে থাকা মিগুয়েল দুয়ার্তে জানান, আমি প্রায় চার মিটার ওপরে একটি ড্রোন দেখেছিলাম। ড্রোনটি আমাদের মাথার ওপরে উড়ছিল, তারপর একটি বিস্ফোরণ ঘটে।

ইসরায়েলি বাহিনী বুধবার গাজার উপকূলে ফ্লোটিলায় ওঠার পর বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। মানবিক সহায়তা ও অবরোধবিরোধী এই অভিযানে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়েছে।

৪০টিরও বেশি বেসামরিক নৌকা ও প্রায় ৫০০ জন সংসদ সদস্য, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী নিয়ে গঠিত গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা গাজায় ওষুধ ও খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।

শুক্রবার ইসরায়েল চারজন ইতালীয় কর্মীকে বহিষ্কার করেছে। আটক শতাধিক কর্মীর মধ্যে প্রথম দফায় মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।