কয়েল ধরাতে গিয়ে গ্যাস লাইটার বিস্ফোরণে দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় মশার কয়েল ধরাতে গিয়ে গ্যাস লাইটার ও মোটরসাইকেল বিস্ফোরণে দগ্ধ গৃহবধূ বানু বেগম (৪৫) মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত বানু বেগম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৮ নাম্বার রহিমানপুর ইউনিয়নের রহিমানপুর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মো. আকবর আলীর স্ত্রী।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে ঘরের ভেতর মশার উপদ্রব বাড়ায় কয়েল ধরাতে যান বানু বেগম। এ সময় তার হাতে থাকা গ্যাস লাইটারটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে পরিধেয় কাপড়ে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ঘরের ভেতর থাকা একটি মোটরসাইকেলে ছড়িয়ে পড়লে সেটিও বিস্ফোরিত হয়। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
বানু বেগমের চিৎকার শুনে তার স্বামী আকবর আলী এবং দুই ছেলে মো. গোলাম রাব্বী ও গোলাম রব্বানী ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভান। পরে ভোর ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ওই দিনই সন্ধ্যা পৌনে ৮টায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আজ দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে একটি লিখিত তথ্য দিয়েছেন নিহত গৃহবধূর বড় ছেলে মো. গোলাম রাব্বী (২২)। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, এটি একটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের কোনো অভিযোগ বা আপত্তি নেই।
জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, অসাবধানতাবশত মশার কয়েল ধরাতে গিয়ে গ্যাস লাইটার ও পরে মোটরসাইকেল বিস্ফোরণে এক নারীর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি।