শিক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান
সংগ্রহীত ছবি
শিক্ষাকে মানব জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসাবে উল্লেখ করে অধিকার কর্মীরা এক আলোচনা সভায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে তাদের সমাজে মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের সুযোগ এনে দেবে।
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘অবজারভেশন অব ওয়ার্ল্ড হোয়াইট ক্যান সেফটি ডে ২০২৫’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংস্থা ‘ভিজুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি (ভিপস)’ বিশ্ব সাদা ছড়ি সুরক্ষা দিবস ২০২৫ উপলক্ষে সম্প্রতি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিবিএস জরিপ (২০২২) অনুসারে, আমাদের দেশে বর্তমানে ৪৭ লাখ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রয়েছেন।
সমাজে আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হওয়ায় তাদের অনেকেরই শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে সংকট রয়েছে। সাধারণ শিক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোকেশনাল শিক্ষাও নিশ্চিত করা দরকার, যাতে তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের পথ সুগম হয়।
তারা বলেন, এতে তাদের সমাজে মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে।
তাদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়াও বক্তারা ঘরের বাইরে সাদাছড়ি ব্যবহারকারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সাদাছড়ি ব্যবহার নিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির অনেক সমস্যা রয়েছে। অনেক সময় সাদাছড়ি তাদের ব্যবহারের জন্য অনুপযুক্ত প্রমাণিত হয়, আবার অনেক লোক এর গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়ে তারা তাদের সাদাছড়ি ব্যবহারকারীদেরকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করে না।
সাদাছড়ি শুধু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য চলাচলের উপাদান নয়, এটি তাদের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং নিরাপত্তার প্রতীকও বটে। সমাজে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ ও সম্মানজনক চলাচল নিশ্চিত করার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর পরিকল্পনা, নিরাপদ পথচারী, অবকাঠামো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে তারা মনে করেন।
বক্তারা সাদাছড়ির তাৎপর্য সম্পর্কে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।
শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ, প্রযুক্তিনির্ভর চলাচল, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তা ও প্রবেশযোগ্যতা নিশ্চিত করা প্রভৃতি বিষয়ে এই অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয়।
ভিপস-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. আলামিন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে যদি তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থাকে।
ভিপস-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অমিত বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তোলা যায় এবং উপযুক্ত পরিবেশ পেলে তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও অবদান রাখতে পারে।’
ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (বারডো) নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতার বর্তমান পরিমাণ বাড়ানো এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হহণের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ভিপস-এর সভাপতি অ্যাড. মোশাররফ হোসেন মজুমদার বলেন, সাদাছড়ি শুধু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চলাচলের সহায়ক বস্তু নয়, এটি তাদের আত্মসম্মান ও মানবাধিকারের প্রতীক। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ, ট্রাফিক পরিষেবা এবং জনসচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে সমাজে অবদান রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ও সদস্য (আইন), বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তানজিনা ইসলাম বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় তিনি যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশ্বাস দেন।
বক্তারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রবেশযোগ্য শহরের পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক (রমনা) বিভাগ কাজী রোমানা নাসরিনসহ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।