স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় আদ্-দ্বীন মোমিন মেডিকেল কলেজে র‍্যালি ও আলোচনা

স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় আদ্-দ্বীন মোমিন মেডিকেল কলেজে র‍্যালি ও আলোচনা

ছবি: প্রতিনিধি

স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে আদ্-দ্বীন মোমিন মেডিকেল কলেজ এর উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, "প্রত্যেকটি গল্প অনন্য, প্রত্যেকটি যাত্রা গুরুত্বপূর্ণ"।

সকালে কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক ও সকল বর্ষের শিক্ষার্থীরা একটি বিশাল সচেতনতামূলক র‍্যালি নিয়ে রাস্তায় নামেন। রেলিটি কলেজের অভ্যন্তর থেকে শুরু করে আদ্-দ্বীন মোমিন মেডিকেল কলেজের আশপাশের রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। গোলাপি ফিতা ও প্ল্যাকার্ড হাতে এই র‍্যালি জনসাধারণের মধ্যে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। রোগীদের মাঝে সচেতনামূলক আলোচনা

র‍্যালি শেষে কলেজের লেকচার গ্যালারিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা উপস্থিত হন। তবে কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা সাধারণ পেশেন্টদের মধ্যে সচেতনতামূলক আলোচনা।

আলোচনা সভায় মূল বক্তা ছিলেন সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শামসুন নাহার । তিনি রোগীদের সাথে সহজ ভাষায় স্তন ক্যান্সার নিয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য অনেক রোগী ও তাদের পরিজন মনোমুগ্ধ হয়ে ভিড় করেন।

আলোচনায় ড. শামসুন নাহার স্তন ক্যান্সারের বিভিন্ন প্রকার ও প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন।

তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, "ব্রেস্ট ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যার চিকিৎসা এখন আমাদের দেশে সহজলভ্য। কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক সময়ে রোগটিকে শনাক্ত করা। স্তনে কোনো প্রকার চাকা বা পিণ্ড দেখা দিলে কিংবা চামড়ায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন এলে এটিকে গোপন না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে আসুন।"

ড. শামসুন নাহার বিশেষ করে মহিলাদের প্রতি অনুরোধ জানান, তাঁরা যেন প্রতি মাসে নিয়ম করে নিজের স্তন স্ব-পরীক্ষা (Self-Examination) করেন। তিনি বলেন, "এই সহজ পদ্ধতিটি আপনাকে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি চিনতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ই এই রোগের বিরুদ্ধে জেতার মূল চাবিকাঠি। ভয় নয়, সচেতনতা হোক আপনার শক্তি।"

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. নাফিসা রাশিদ, বিশেষ অতিথি ড. শামসুদ্দিন আহমেদ (হিরা) এবং অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার জাহান শোমাসহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও চিকিৎসকবৃন্দ।

আয়োজকরা আশা করেন এই ধরনের জনমুখী কর্মসূচি স্তন ক্যান্সার নিয়ে সমাজে বিদ্যমান ভুল ধারণা দূর করতে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের হার বাড়াতে সাহায্য করবে।