বিএনপির কাছে দুদিনে ১৪ নারী হেনস্তার অভিযোগ ঢাবি ছাত্রীসংস্থার

বিএনপির কাছে দুদিনে ১৪ নারী হেনস্তার অভিযোগ ঢাবি ছাত্রীসংস্থার

ছবিঃ সংগৃহীত

নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে গত দুই দিনে বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে মহিলা জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থার নেতাকর্মীদের অন্তত ১৪টি হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রীসংস্থার সভানেত্রী ও ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না। এসব ঘটনায় জড়িত ‘চিহ্নিত’ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সাবিকুন্নাহার তামান্না। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রীসংস্থার সেক্রেটারি ও ডাকসুর আরেক সদস্য আফসানা আক্তার। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন,“নির্বাচনী প্রচারণার দিন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে অব্যাহতভাবে নারীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, নারীদেরকে হেনস্তা করা হচ্ছে। যেসব নারী এ সমস্ত হামলার প্রতিবাদে অনলাইনে সরব হয়েছেন, ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদেরকে স্লাটশেমিং করছে, মেসেঞ্জারে তাদেরকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অব্যাহতভাবে এই ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে।”

গত দুই দিনে সংঘটিত নারী নির্যাতন ও হেনস্তার অন্তত ১৪টি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান,

২৫ জানুয়ারি যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার কীর্তিপুর এলাকায় যুবদল সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে নারীদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই দিনে চুয়াডাঙ্গা ও কুমিল্লায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।

তিনি বলেন,“২৬ জানুয়ারি আমরা যেই ঘটনাটির সাক্ষী হয়েছি, টাঙ্গাইলে একজন মহিলাকে কিভাবে বর্বরোচিতভাবে হামলা করা হয়েছে। একজন মহিলার দুই পায়ের মাঝখানে কিভাবে আঘাত করা হয়েছে, সেই দৃশ্য আমাদের কাঁদতে বাধ্য করেছে।”

একই দিনে লালমনিরহাটেও জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া ভোলা, নাটোর, লক্ষ্মীপুর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জানুয়ারি মাসজুড়ে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার একাধিক ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তামান্না।

তিনি বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় অব্যাহতভাবে নারীদেরকে এভাবে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের বর্তমানে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে কোন ধরনের পদক্ষেপ দেখিনি।”

একই সঙ্গে ‘সিলেক্টিভ প্রতিবাদ’ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন,“ক্রমাগতভাবে বিএনপি কর্তৃক নারীদেরকে যে শারীরিক হামলা করা হচ্ছে, এর কোনো প্রতিবাদ আমরা কোনো মহল থেকে দেখতে পাইনি।”

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন,“ মিডিয়া তার আগের স্বভাব ধরে রেখেছে… মিডিয়াও প্রকৃত অপরাধীদের সামনে আনছে না।”

শেষে তিনি বলেন, “আপনারা কোনোভাবেই কোনো নারীকে আইন নিজের হাতে নিয়ে শারীরিক আঘাত করতে পারেন না।”

এবং বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,“আপনাদের যে নেতাকর্মীরা এই ধরনের কার্যক্রমের সাথে জড়িত, তারা তো চিহ্নিত; আপনারা তাদের বিচার করুন। জনসম্মুখে তাদের শাস্তি ঘোষণা করুন।”

তার মতে, তা না হলে নারীরা নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পাবে, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।