বায়ুদূষণ মোকাবিলায় ক্যাপস ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি স্বাক্ষর
ছবি: সংগৃহীত
বায়ুদূষণ সংক্রান্ত গবেষণা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরে অবস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা অনুযায়ী, দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বায়ুদূষণ গবেষণা, তথ্য আদান–প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন রেজিস্ট্রার ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী এবং ক্যাপসের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।
সমঝোতার আওতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা নির্ধারিত কলেজগুলোতে একটি করে ক্লিন এয়ার ক্লাবের কমিটি গঠন করা হবে এবং বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানউল্লাহ। ফোকাল পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী, অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম, এবং ক্যাপসের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, গবেষক মো. নাছির আহম্মেদ পাটোয়ারী ও গবেষণা সহকারী মোহাইমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানউল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাপসের এই উদ্যোগ টেকনোলজি হস্তান্তর, যৌথ গবেষণা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
উপ-উপচার্য অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, এই সমঝোতা স্বাক্ষর সারা দেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বন্ধন সৃষ্টি করবে এবং নলেজ শেয়ারিং প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
ফোকাল পার্সন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বায়ুদূষণ গবেষণায় ক্যাপস এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে কাজ করবে। এটি শিক্ষার্থীদের গবেষণা মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বায়ুমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, নির্মল বায়ু মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ক্যাপসের গবেষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে পরিবেশ আরও স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন হবে।
সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ক্যাপস এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় সম্পৃক্তকরণ, বায়ুদূষণ গবেষণা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে পরিষ্কার বায়ু নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।