রমজান শুরুতে নবীজির ঐতিহাসিক ভাষণ ও শিক্ষা

রমজান শুরুতে নবীজির ঐতিহাসিক ভাষণ ও শিক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

চৌদ্দশ বছরেরও বেশি আগে, রমজানের আগমুহূর্তে মদিনার মসজিদে নবীজি (স.) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। এই ভাষণে তিনি রমজানের তাৎপর্য, ফজিলত এবং করণীয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা দেন। সালমান ফারসি (রা.) বর্ণিত এই ভাষণটি (ইবনে খুজাইমা: ১৮৮৭) আজও মুসলিম উম্মাহর জন্য শ্রেষ্ঠ পাথেয়।

মহান ও বরকতময় মাস

ভাষণের শুরুতে নবীজি (স.) বলেন, ‘হে লোকসকল! তোমাদের ওপর এক মহান ও বরকতময় মাস ছায়া বিস্তার করেছে। এই মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ তিনি জানান, এ মাসের রোজা ফরজ এবং রাতের নামাজকে (তারাবি) নফল হিসেবে সওয়াবের মাধ্যম করা হয়েছে।

সওয়াব বৃদ্ধির সুসংবাদ

নবীজি (স.) এই মাসে আমলের সওয়াব বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি এই মাসে একটি নফল আমল করবে, সে অন্য মাসের ফরজের সমান সওয়াব পাবে। আর একটি ফরজ আদায় করলে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াব পাবে।’

ধৈর্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা

রাসুলুল্লাহ (স.) রমজানকে ‘সবর’ বা ধৈর্যের মাস হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাত। এটি সহমর্মিতা ও সহানুভূতির মাস।’ এ মাসে মুমিনের রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইফতার করানোর সওয়াব

রোজাদারকে ইফতার করানোর গুরুত্ব দিয়ে নবীজি (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তা তার গুনাহ মাফের কারণ হবে এবং সে দোজখ থেকে মুক্তি পাবে।’ সাহাবায়ে কেরাম সামর্থ্যের কথা তুললে নবীজি বলেন, ‘আল্লাহ এই সওয়াব তাকেও দেবেন, যে একটি খেজুর, এক ঢোক পানি বা সামান্য দুধ দিয়েও কাউকে ইফতার করাবে।’

রমজানের তিন দশক

নবীজি (স.) এই মাসকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন। প্রথম অংশ রহমত (আল্লাহর দয়া), দ্বিতীয় অংশ মাগফিরাত (ক্ষমা) এবং তৃতীয় অংশ নাজাত (জাহান্নাম থেকে মুক্তি)।

চারটি বিশেষ আমল
ভাষণের শেষে নবীজি (স.) চারটি কাজ বেশি করার নির্দেশ দেন। দুটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য—কালেমায়ে তৈয়বা পাঠ ও অধিক ইস্তিগফার। আর দুটি নিজের প্রয়োজনে—আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া।

নবীজি (স.)-এর এই ভাষণটি কেবল রমজানের ফজিলত বর্ণনাই নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও সমাজসেবার এক কালজয়ী পাঠ।

(সূত্র: শুআবুল ঈমান: ৩৩৩৬; মিশকাত: ১৯৬৩)