ফেনীর পরশুরামে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক

ফেনীর পরশুরামে  ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক

প্রতিকী ছবি

ফেনীর পরশুরামে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় অপরাধে তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন এক নারী। ওই নারী আরো বলেন, তার নিষেধ অমান্য করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তাকে তালাক দিয়েছেন।

আইনজীবীর সহায়তায় আদালতের মাধ্যমে তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে রবিবার দুপুরে অজ্ঞাত স্থান থেকে মোবাইল ফোনে লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান রানু আক্তার নামের ওই নারী।

তাদের সংসারে দুই পুত্র সন্তান রয়েছে বলে জানা যায়।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত স্বামীর নাম নূর মোহাম্মদ সুমন সে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের শালধর গ্রামের বাসিন্দা। সুমন স্থানীয়ভাবে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

 
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নে পাগলীরকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে স্বামী নুর মোহাম্মদ সুমন বলেন, ‘আমার স্ত্রী এখনো ভোটার  হয়নি, সে কিভাবে ভোট দেবেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে আদালতের মাধ্যমে আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়।

তাছাড়া আমি কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।

পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুল হালিম মানিক বলেন, ‘বিষয়টি তিনি শুনেছেন তার দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে পাঠিয়েছি। ওই নারী অভিযোগ করছেন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তাকে তালাক দিয়েছে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে।’ 

অপরদিকে উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হালিম বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ সুমন আমাদের দলের কেউ নন এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে চিনি না তাছাড়া ভোট দেওয়ার কারণে তাকে তালাক দেওয়া হয়নি, পারিবারিক কলহের জেরে নূর মোহাম্মদ সুমন তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে।

ফেনী জজ কোর্টের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ও জামায়াতের শুরা সদস্য এমদাদ হোসেন বলেন, ‘রানু আক্তার নামে ওই নারীকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় কারণে তালাক দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। দাম্পত্য কলহের জেরে নূর মোহাম্মদ তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। তাছাড়া তাদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।