খুলনা বিভাগে হামের হটস্পট যশোর: বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু

খুলনা বিভাগে হামের হটস্পট যশোর: বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু

সংগৃহীত ছবি

খুলনা বিভাগে হাম সংক্রমণের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত যশোরে জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ রবিবার সকালে যশোর সদর উপজেলার বিরামপুর কমিউনিটি ক্লিনিক চত্বরে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খান মাসুম বিল্লাহ, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা ও ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেলসহ স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতায় হাম-রুবেলার নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় পিছিয়েছে। এর পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও টিকা গ্রহণে এক ধরনের অনীহা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। তবে এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

তিনি জানান, খুলনা বিভাগে যশোর সদর উপজেলাকে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বিপরীতে এক লাখ ডোজ টিকা বর্তমানে মজুদ রয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও জুলাই মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিভাগের অন্যান্য জেলা ও উপজেলাতেও এই বিশেষ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

এদিকে, যশোরে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালেই নতুন করে পাঁচজন সন্দেহভাজন হামের রোগী ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণত রুটিন মাফিক শিশুদের হাম-রুবেলার দুটি ডোজ দেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়তি সুরক্ষার জন্য ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে আবারও এই টিকা নিতে হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল অভিভাবককে নিকটস্থ ক্লিনিকে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।