পঞ্চগড়ে কলেজছাত্রীকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব, যুবকের জেল-জরিমানা
সংগৃহীত ছবি
পঞ্চগড়ে দ্বাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রীকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া এবং আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে আবু হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন মুন্না পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের একটি কক্ষে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এ রায় দেন।
আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে বাদীর অভিযোগ, আসামির স্বীকারোক্তি এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু হোসেনের বাড়ি পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের ডুডুমারি এলাকায়। তিনি রাজমিস্ত্রীর যোগালি হিসেবে কাজ করতেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের উত্তর গেট সংলগ্ন একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই কলেজছাত্রী প্রাইভেট শেষে কলেজের পেছনের সরু গলি দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আবু হোসেন তার পথরোধ করে টাকার বিনিময়ে তার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করেন। ছাত্রীটি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে এমন আপত্তিকর আচরণ করায় সে খুব ভয় পেয়েছে। আমি চাই, ভবিষ্যতে আর কারও সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, আমরা একটি মেয়ের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে যাই। পরে জানতে পারি লোকটি আপত্তিকর আচরণ করেছে। তখন আমরা তাকে আটক করে পুলিশে দেই।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু হোসেন বলেন, আমি হাসপাতালে ওষুধ নিতে এসেছিলাম। ফেরার পথে শুধু বলেছি, ‘আপু, ঘুরতে যাবেন?’ আর কিছু বলিনি। পরে আমি ক্ষমাও চেয়েছি। তারপরও আমাকে এত বড় শাস্তি দেওয়া হলো।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই রায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যারা এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করবে, তাদের পরিণতি এমনই হবে।