হাসান নাসিমের মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

হাসান নাসিমের মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

সংগৃহীত ছবি

কার্টুন শেয়ার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক্টিভিস্ট হাসান নাসিমের মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের হাতে ‘কথা চলবে, কলম চলবে’, ‘বলে যাবো, লড়ে যাবো’সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান লেখা ফেস্টুন দেখা যায়।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন বক্তব্যে বক্তারা বলেন, হাসিনা সরকারের আমলে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার হওয়া লেখক মুস্তাক ও কার্টুনিস্ট আহমেদ কিশোরের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল রয়েছে। তারা আজকের শুনানিতে হাসান নাসিমের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, ‘এখানে দাঁড়িয়ে আমার লেখক মুস্তাক, কার্টুনিস্ট আহমেদ কিশোরের কথা মনে পড়ছে। আমরা তাদের ভুলে যাইনি।

হাসিনা সরকার লেখক মুস্তাককে বাসা থেকে তুলে গুম করেছিল। আমাদের লেখক মুস্তাকের কথা তখন মনে পড়েছে, যখন হাসান নাসিমকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা কিশোরকে স্মরণ করেছি, যখন হাসান নাসিমকে জেলে বন্দি করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাসান নাসিমকে যে মামলায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তার ৩ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা।

কিন্তু তার ভাই ডিবি অফিসে গেলেও তার সঙ্গে কেউ কথা বলেনি। তার জামিন মঞ্জুর করা হয়নি।’

এসময় তিনি দাবি করেন, আজকের শুনানিতে নিঃশর্তভাবে হাসান নাসিমকে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সরকারের পলিসি নিয়ে সমালোচনার ক্ষেত্রে সব লেখক, শিল্পী, চিত্রশিল্প, কার্টুনিস্টদের কাজের স্বাধীনতা দাবি করেন।

সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খান তালাত রাফি বলেন, ‘হাসিনার তৈরি করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ ব্যবহার করে হাসিনার সরকার ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, জনগণের কণ্ঠরোধ করেছিল।

এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে খুনি হাসিনার তৈরি করা আইন ব্যবহার করে জনগণের বাকস্বাধীনতা হরণ করছে।’ এসময় তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসান নাসিমকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা সরকার গঠনের দুই মাসের মাথায় বাংলাদেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকটসহ নানা সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশের মানুষ। হাসিনা হওয়ার যে মিশনে আপনারা নেমেছেন, তা ছাড়াও এই দেশের মানুষের জন্য অনেক কাজ রয়েছে; সেগুলো নিয়ে আপনারা সংসদে কথা বলেন। আপনারা হাসিনা হয়ে উঠতে চাইলেও, আমরা আপনাদের হাসিনা হয়ে উঠতে দেব না।’