পাঁচ মিনিটে দুই গোল দিয়ে ফাইনালে ম্যানসিটি
ছবি: সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়নশিপের দল সাউদাম্পটনের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে টানা চতুর্থবারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
ম্যাচের শুরুটা ধীরগতির ছিল। শেষ দিকে তা উত্তেজনা ছড়ায়। ৭৯ মিনিটে ফিন আজাজ একটি চমৎকার গোল করে সাউদাম্পটনকে জয়ের স্বপ্ন দেখান। তবে এই গোল খেয়েই সিটি জেগে ওঠে। ৮২ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় জেরেমি ডোকু একটি ডিফ্লেক্টেড শটে সমতা ফেরান এবং ৮৭ মিনিটে নিকো গনজালেস এক দুর্দান্ত জোরালো শটে জয় নিশ্চিত করেন।
কয়েক মিনিটের জন্য সাউদাম্পটন তাদের ১৯৭৬ সালের সেই ঐতিহাসিক শিরোপার ৫০ বছর পূর্তিতে আবারও ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিটির 'ট্রেবল' জয়ের মিশনই টিকে রইল। গত মাসে কারাবাও কাপ জেতা সিটি আগামী মে মাসে চেলসি অথবা লিডসের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে আবারও ওয়েম্বলিতে ফিরবেলিগ শিরোপার লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে বার্নলির বিপক্ষে খেলা দল থেকে ৮টি পরিবর্তন এনেছিলেন পেপ গার্দিওলা।
ফলে শুরুতে সিটিকে কিছুটা ছন্দহীন মনে হয়েছে। ম্যাচের শুরুতেই রেইন্ডার্সের শট পোস্টে লাগে এবং ফিল ফোডেনের ফলো-আপ শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করা হয়, যদিও সেটি অফসাইড ছিল।
সাউদাম্পটনও ভালো লড়াই করেছে। লিও সিয়েনজার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। সিটির মাতেও কোভাসিচ এবং ওমর মারমৌশ সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন।
গোল না আসায় গার্দিওলা ৬০ মিনিটের মাথায় ফোডেন ও কোভাসিচকে তুলে নিয়ে স্যাভিনিও এবং ডোকুকে মাঠে নামান। পরে আর্লিং হালান্ড ও নিকো ও'রাইলিকেও নামানো হয়।
সিটি যখন গোলের খোঁজে মরিয়া, ঠিক তখনই সবাইকে স্তব্ধ করে দেন আজাজ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে এক বাঁকানো শটে তিনি সিটির জালে বল জড়ান।
তবে সাউদাম্পটনের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ডোকু বল নিয়ে ডি বক্সের কিনারায় গিয়ে শট নেন, যা জেমস ব্রির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢোকে। সমতা ফেরার কয়েক মিনিটের মধ্যেই গনজালেস এক বুলেট গতির শটে বল ওপরের কোণা দিয়ে জালে পাঠান। ৫ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে সিটি জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের একেবারে শেষে স্যাভিনিও আরও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু সেটি গোললাইন থেকে ফিরে আসে। এই জয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালকে চাপে রাখার পাশাপাশি সিটির সামনে এখন আরও একটি ট্রফি জয়ের হাতছানি।