ইরানের শ্বাসরোধ করতে গিয়ে ট্রাম্পের নিজেরই দমবন্ধ দশা

ইরানের শ্বাসরোধ করতে গিয়ে ট্রাম্পের নিজেরই দমবন্ধ দশা

সংগৃহীত ছবি

যুদ্ধের মেঘ কাটতে না কাটতেই এবার শুরু হয়েছে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ। পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর, পানির ওপর এখন কেবলই মার্কিন রণতরীর গর্জন। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লৌহবর্মী নৌ-অবরোধ, অন্যদিকে তেহরানের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন একটাই, কে আগে পলক ফেলবে, কে হার মানবে?

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, হরমুজে কিছুই ঢুকবে না, কিছুই বের হবে না। পিট হেগসেথের এই হুঙ্কার এখন ইরানের জন্য এক রূঢ় বাস্তবতা। গত দশ দিন ধরে ইরানের প্রধান বন্দরগুলো কার্যত অচল। মার্কিন নৌবাহিনী প্রতিটি জাহাজের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। যার ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ইরানের প্রাণভোমরা, তেল রপ্তানি। তেহরানের তেলের ভাণ্ডার এখন উপচে পড়ার মুখে, অথচ বিশ্ববাজারে তা পৌঁছানোর সব পথই কন্টকাকীর্ণ।

তেহরানের রাস্তায় এখন বারুদের গন্ধের চেয়েও তীব্র হয়ে উঠেছে অভাবের হাহাকার। নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পর্দার আড়ালে। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক এক লিখিত বার্তা দেশের মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। তিনি সাধারণ মানুষকে একে অপরের প্রতি ‘বিবেচনাশীল’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ক্ষুধার্ত পেটে সহানুভূতি কতক্ষণ টিকবে?

তেহরানের সুপারমার্কেটগুলো এখনও পূর্ণ দেখালেও, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে নিত্যপণ্য। চাল, ডাল, ডিম এমনকি জীবনদায়ী ওষুধের দাম বেড়ে গেছে তিন থেকে চার গুণ। যুদ্ধের দোহাই দিয়ে সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও, প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন। এককালের সচ্ছল পরিবারগুলো এখন দুবেলা খাবারের চিন্তায় দিশেহারা।

তবে ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। অবরোধ ভাঙতে পুরোনো ও পরিত্যক্ত বিশালকার তাকারগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে তেহরান। সাগরে ‘ভাসমান স্টোরেজ’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ৩০ বছরের পুরনো ক্রুড ক্যারিয়ার ‘নাশা’। পাশাপাশি কাস্পিয়ান সাগর বা স্থলসীমান্ত দিয়ে পণ্য আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাতে খরচ বাড়ছে বহুগুণ, যা ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির ওপর যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।

গল্পের অপর পিঠ কিন্তু ট্রাম্পের জন্যও খুব একটা সুখকর নয়। সামনেই মধ্যবর্তী নির্বাচন। মার্কিন ভোটাররা তেলের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন। সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্প কি পারবেন মাসের পর মাস এই ব্যয়বহুল অবরোধ জারি রাখতে? তেহরানের শাসকরা সম্ভবত ঠিক এই জায়গাটিই বাজিয়ে দেখছেন। তারা মনে করছেন, আমেরিকানরাই আগে ধৈর্যের বাঁধ হারাবে।

এই লড়াই শুধু দুই দেশের নয়, থমকে দাঁড়িয়েছে গোটা বিশ্ব। প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম এবং সারের বিশ্ববাজারের একটি বড় অংশ আসে এই মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস যাতায়াত করে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক অন্ধকার টানেলে প্রবেশ করেছে।

সিএনএনের বিশ্লেষণ