আদ্-দ্বীন মোমিন মেডিকেল কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আদ্-দ্বীন মোমিন মেডিকেল কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি: প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক : আদ্-দ্বীন মোমিন মেডিকেল কলেজের ১২তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার কলেজ মিলনায়তনে "Mental health awareness & Magic of Medical life" শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. গোলাম রহমান (দুলাল)।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. গোলাম রহমান (দুলাল) নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এক দূরদর্শী ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসাবিদ্যা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি আজীবন সাধনা। সফলতার শিখরে পৌঁছাতে হলে লক্ষ্য স্থির রাখা এবং ধৈর্য ধারণ করা অপরিহার্য। এ সময় তিনি বিশ্বখ্যাত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা এবং দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও নবীন রাজনীতিবিদ থালাপথি বিজয়ের জীবনের উদাহরণ টেনে শিক্ষার্থীদের বোঝান যে, প্রতিকূলতা জয় করেই বড় হতে হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য এখন থেকেই নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনের পরামর্শ দেন।

সেমিনারের দ্বিতীয় পর্যায়ে সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সুস্মিতা সরকার স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মেডিকেল জীবনের মানসিক চাপ মোকাবিলায় অত্যন্ত তথ্যবহুল ও কার্যকরী আলোচনা তুলে ধরেন।

ডা. সুস্মিতা বলেন, পারিপার্শ্বিক যেকোনো পরিবর্তন যা আমাদের মন ও শরীরে প্রভাব ফেলে, তাই স্ট্রেস। তিনি উদাহরণ দেন যে, ঝড়ে যেমন সব গাছ ভেঙে পড়ে না, তেমনি মানসিকভাবে শক্তিশালী হলে যেকোনো বড় চাপ সামলানো সম্ভব।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, বিশাল সিলেবাস, নতুন ভাষায় (ইংরেজি) পড়াশোনার চাপ এবং প্রতিদিনের আইটেম-কার্ড পরীক্ষার ভয় থেকে মূলত চাপের সৃষ্টি হয়। এই ভয়কে জয় করাই হলো প্রথম ধাপ। মেডিকেল লাইফে কোনো আনন্দ নেই বা এখানে ক্যারিয়ার গড়া কঠিন—এসব ভ্রান্ত ধারণা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. সুস্মিতা সরকার শিক্ষার্থীদের চাপ নিয়ন্ত্রণের কৌশল উল্লেখ করে বলেন, নিয়মিত পড়াশোনার মাঝে বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং কোনো বিষয়ে বুঝতে সমস্যা হলে শিক্ষকদের সরাসরি সহায়তা চাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের 'ম্যারাথন' দৌড়ের সাথে তুলনা করে বলেন, দ্রুত দৌড়ানোর চেয়ে নিয়মিত ও ধৈর্য ধরে টিকে থাকাই আসল সার্থকতা। নিজেকে বিচার না করে অন্যের সাথে তুলনা বন্ধ করা এবং অর্থবহ সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তৃতীয় পর্যায়ে সাইকোসোশ্যাল কমিটির কনভেনার প্রফেসর ড. ঋতু সাহা তাঁর প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষা সফর ও ইন্টার্নশিপের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সেমিনারে বক্তারা একমত হন যে, মেডিকেল জীবন কেবল ডিগ্রি অর্জনের নয়, বরং একজন আদর্শ, সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এক নিরন্তর যাত্রা। অনুষ্ঠানে ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী, শিক্ষকবৃন্দ এবং সাইকোসোশ্যাল কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।