দীর্ঘদিন ভালো রাখতে শখের জামদানির যত্ন নেবেন যেভাবে
ফাইল ফটো
জামদানি শুধু একটি শাড়ি নয়, এটি অনেক নারীর আবেগ ও পছন্দের অংশ। মিহি সুতা, সূক্ষ্ম নকশা আর হাতে তৈরি কারুকাজের কারণে জামদানি শাড়ির আলাদা কদর রয়েছে। অনেকেই বছরের পর বছর এই শাড়ি যত্ন করে ব্যবহার করতে চান। তবে সাধারণ শাড়ির মতো জামদানির যত্ন নিলে চলবে না।
এর সৌন্দর্য ও বুনন ঠিক রাখতে দরকার বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জামদানি শাড়ি কখনোই বাসায় ধোয়া উচিত নয়। কারণ এই শাড়ির সুতা তৈরির সময় বিশেষ ধরনের মাড় ব্যবহার করা হয়। পানি লাগলে সুতার বুনন আলগা হয়ে যেতে পারে এবং শাড়ি দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই জামদানি পরিষ্কার করতে হলে অভিজ্ঞ লন্ড্রিতে ‘কাটা ওয়াশ’ করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। অনেকেই শাড়ি ভাঁজ করে রাখেন, কিন্তু জামদানির ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর হতে পারে। বারবার ভাঁজের কারণে সুতার অংশ দুর্বল হয়ে যায় এবং ফেঁসে যেতে পারে।
তাই জামদানি গোল করে পেঁচিয়ে রাখা ভালো। এজন্য মোটা পাইপ বা লম্বা কাঠি ব্যবহার করা যেতে পারে।
বর্ষাকালে জামদানি শাড়িতে ফাঙ্গাস পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে কাপড়ের রঙ নষ্ট হতে পারে, এমনকি সুতা পচেও যেতে পারে। তাই মাঝে মাঝে হালকা রোদে বা বাতাসে শাড়ি মেলে দেওয়া উচিত।
তবে খুব তীব্র রোদে বেশি সময় রাখা ঠিক নয়।
জামদানির আসল সৌন্দর্য তার বুননে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে শাড়ির সুতা নরম হয়ে যেতে পারে কিংবা মাড় কমে যেতে পারে। তাই প্রতি দুই থেকে তিন বছর পরপর শাড়িতে কাটাই করিয়ে নিলে এর বুনন ও শক্তি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
খাবার খাওয়ার সময় শাড়িতে ঝোল বা দাগ লাগলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে পানি ব্যবহার করেন। কিন্তু জামদানির ক্ষেত্রে এটি করা উচিত নয়। বরং দাগের জায়গায় হালকা ট্যালকম পাউডার ছিটিয়ে যত দ্রুত সম্ভব লন্ড্রিতে দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, জামদানি দীর্ঘদিন আলমারিতে তুলে রাখলে বরং দ্রুত নষ্ট হতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার করলে কাপড় ভালো থাকে। তাই শুধু বিয়ে বা বড় অনুষ্ঠানের জন্য না রেখে ছোটখাটো দাওয়াত বা আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার সময়ও জামদানি পরা যেতে পারে। ব্যবহারের পর শাড়ি ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর সংরক্ষণ করা উচিত।
নতুন জামদানি কেনার পর পাড়ে ফলস এবং আঁচলে নেট লাগিয়ে নিলে শাড়ি অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকে। এতে পাড় সহজে ভাঁজ হয় না এবং ঘষা লেগে কাপড় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কমে যায়।