অবশেষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইইউ
ছবিঃ সংগৃহীত।
ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা নতুন নিষেধাজ্ঞায় সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।হাঙ্গেরিতে সরকার পরিবর্তনের পর কয়েক মাসের এই অচলাবস্থার অবসান হয়।
ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘অচলাবস্থা থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার এটাই ছিল উপযুক্ত সময়। চরমপন্থা ও সহিংসতার পরিণতি রয়েছে।
সোমবার (১১ মে) ব্রাসেলস থেকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো বলেন, পশ্চিম তীরে উগ্র ও সহিংস বসতি স্থাপন কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়া প্রধান ইসরায়েলি সংগঠন ও তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইইউ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘এ ধরনের গুরুতর ও অসহনীয় কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ’
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণের জবাবে নেওয়া এ পদক্ষেপ এতদিন আটকে ছিল হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিরোধিতার কারণে।
তবে জাতীয়তাবাদী নেতা ও ইসরায়েলপন্থী অরবান ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পিটার মাগইয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভেটো প্রত্যাহারের এ পথ তৈরি হয়েছে।
ইইউ কর্মকর্তারা জানান, সাত জন বসতি স্থাপনকারী বা বসতি স্থাপনকারী সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত হয়েছে জোটটি।
নতুন এ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রাণঘাতী হামলা বেড়েছে।
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এগিয়ে নিলেও, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার মতো ইসরায়েল বিরোধী আরও পদক্ষেপে এখনো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি।
ব্রাসেলসে বৈঠকে পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে আসা পণ্য নিষিদ্ধ করার দাবিও আলোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, এ বিষয়ে এখন প্রস্তাব দেবে ইইউ’র নির্বাহী বিভাগ।
এরপর সদস্য দেশগুলোর সমর্থন পর্যাপ্ত কি না, তা দেখা হবে।তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রস্তাব আসার আগে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ’