ভারসাম্যহীন মায়ের নবজাতকের নাম রাখা হলো ‘আয়েশা আক্তার মুসকান’

ভারসাম্যহীন মায়ের নবজাতকের নাম রাখা হলো ‘আয়েশা আক্তার মুসকান’

সংগৃহীত ছবি

ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক আবেগঘন ও ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক তরুণীর নবজাতক কন্যাশিশুর নাম রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দোয়া, মোনাজাত ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে শিশুটির নাম রাখা হয় ‘আয়েশা আক্তার মুসকান’। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, নিজের পরিচয় ও অতীত সঠিকভাবে বলতে না পারলেও ভারসাম্যহীন মা রিয়া ইসলাম মনি আগে থেকেই তার মেয়ের নাম পছন্দ করে রেখেছিলেন। তার সেই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে হাসপাতাল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহফুজুর রহমান নবজাতকের নাম ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. সাইদুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ফরায়েজী, সদর হাসপাতালের পুলিশ ইনচার্জ নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক মিরহোসেন রাশেল, সাংবাদিক তানজিদ শুভ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বন্ধুমহল’-এর নেতৃবৃন্দ। মোনাজাত শেষে উপস্থিত সবাইয়ের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিয়া ইসলাম মনি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার উত্তর সাধুরখীল গ্রামের আব্দুস সোবহানের মেয়ে। প্রায় পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। পরে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে পায়ে হেঁটে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় চলে আসেন। তবে দীর্ঘ এই পথে তিনি কীভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ৬ মে দাগনভূঞার জায়লস্কর ইউনিয়নের মোল্লাঘাটা বাজারে চটপটি বিক্রেতা আবুল কাশেম অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে সহায়হীন অবস্থায় দেখতে পান। পরে ৭ মে স্থানীয় নার্স রিমির সহায়তায় তিনি একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় সাংবাদিক জসিম ফরায়েজী ও ‘বন্ধুমহল’ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে মা ও শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, এই অসহায় মা ও নবজাতকের পাশে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।