পাবনার সাঁথিয়ায় পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি
ফাইল ছবি
বনার সাঁথিয়ায় একটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা (নিলাম) কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংঘর্ষ এড়াতে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঁথিয়া পৌরসভাধীন ইছামতী নদীর তীরের ডাইকসংলগ্ন পরিত্যক্ত জায়গায় একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেয় পৌর প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের অনুমতি মেলার পর গত ১৯ মে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই হাটের প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়।
২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মোট ২৬ জন দরদাতা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তবে নিলাম চলাকালেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিফ রায়হান কার্যক্রম স্থগিত করেন।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টায় পুনরায় নিলামের ডাক দেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নিলাম বর্জন করে হলরুম থেকে বেরিয়ে যান।
পরে থানা-পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করার ঘোষণা দেয়।
এই বিষয়ে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমানের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, "পশুর হাট নিয়ে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হলেও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, "পৌর প্রশাসনের আহ্বানে আমরা নিলামে অংশ নিতে গিয়েছিলাম।
কিন্তু জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আমাদের গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ায় আমরা নিলাম বর্জন করতে বাধ্য হই।
এদিকে সাঁথিয়া পৌরসভাধীন বোয়াইলমারী হাটের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন জানান, ইছামতী নদীর ডাইকের পাশে কোনো অস্থায়ী হাট বসবে না। আগামী সোমবার থেকে বোয়াইলমারী পেঁয়াজ হাটেই পশুর হাট বসানো হবে।
সার্বিক বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, ইছামতী নদীর ডাইকের পাশে এখনো কোনো পক্ষকে ইজারা দেওয়া হয়নি। হাট কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় জনস্বার্থে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকাকালীন ওই এলাকায় সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন, লাঠিসোঁটা বা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন, মাইকিং, সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং পাঁচ বা ততধিক ব্যক্তির জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।