কুমিল্লায় ১৭৬ কোটি টাকার ঋণখেলাপি মামলার আসামি কারাগারে

কুমিল্লায় ১৭৬ কোটি টাকার ঋণখেলাপি মামলার আসামি কারাগারে

ফাইল ছবি

কুমিল্লায় ঋণখেলাপি মামলার আসামি ও ওয়েসিস হাইটেক স্পোর্টসওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশফাকুর রহমান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

শনিবার বিকালে এ আদেশ দেন আদালত। এর আগে দুপুরে কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার। 

ইসলামী ব্যাংক কুমিল্লা শাখার ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ মো. এমদাদুল মতিন জানান, ওয়েসিস হাইটেক স্পোর্টসওয়্যার লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটির যৌথ মালিকানায় রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জাভেদ আলী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশফাকুর রহমান চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জাভেদ আলী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কুমিল্লা শাখা থেকে প্রতিষ্ঠানটি ১১৬ কোটি ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে লেনদেন চললেও ২০১৯ সালে প্রায় ১০০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ ঋণ খেলাপিতে রূপ নেয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ১৭৬ কোটি টাকারও বেশি।

দীর্ঘদিন ধরে পাওনা আদায়ে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করা হলেও অভিযুক্তরা ঋণ পরিশোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। একপর্যায়ে বকেয়া ঋণের আংশিক পরিশোধের জন্য ব্যাংকে চেক প্রদান করা হলেও সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আদালত তাদের এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ইসলামী ব্যাংক কুমিল্লার আইনজীবী বদিউল আলম সুজন বলেন, আশফাকুর রহমান চৌধুরী ব্যাংক থেকে পৃথকভাবে মোট ১৭৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। পরে ব্যাংকের সঙ্গে চেক প্রদানের মাধ্যমে প্রতারণা করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে পাঁচটি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে একটি মামলায় আদালত তাকে এক বছরের সাজা দিয়েছেন। বাকি মামলাগুলোও বিচারাধীন। অল্প সময়ের মধ্যে বিচারের কাজ সম্পন্ন হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঋণ খেলাপি একটি মামলায় আদালত আশফাকুর রহমান চৌধুরীকে এক বছরের সাজা দেন। ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। শনিবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।