কলকাতায় সরিয়ে ফেলা হচ্ছে মেসির ভাস্কর্য
সংগৃহীত
কলকাতার লেকটাউনে অবস্থিত মেসির ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছন পশ্চিমবঙ্গের এক বিধায়ক।
গত বছর লিওনেল মেসির কলকাতা সফর উপলক্ষে লেকটাউনের পাশে ভাস্কর্যটি বানানো হয়। সম্প্রতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তীব্র বাতাসের সময় বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকে ভাস্কর্যটি। ফলে যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার শঙ্কায় তা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি—এমন একটি অবয়ব নিয়ে তৈরি ভাস্কর্যটি গত বছরের ডিসেম্বরে উন্মোচন করা হয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধায়ক শরদ্বত মুখোপাধ্যায় এএফপিকে জানিয়েছেন, এটি আর নিরাপদ নয়। তাই ইতোমধ্যে ২১ মিটার উঁচু ভাস্কর্যটি অবিকৃতভাবে নামিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে।
বিধায়ক বলেন, ‘কলকাতা শহরে বসানো আর্জেন্টিনার এই ফুটবল কিংবদন্তির ভাস্কর্যটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকৌশলীরা। আমরা লক্ষ করেছি, ভাস্কর্যটি বাতাসে দুলছে।’
পুরো ভাস্কর্যটি কবে নাগাদ নামিয়ে আনা সম্ভব হবে, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ কলকাতার গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের বরাতে জানিয়েছে, এই ভাস্কর্য নামাতে একাধিক বিশাল ক্রেনের দরকার হবে। আর সেটা করতে হলে এই রাস্তা বন্ধ রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। শুধু তাই নয়, বন্ধ করতে হবে বিদ্যুৎ সংযোগও। তবে ভাস্কর্যের পাশে সাবওয়ে থাকায় এত ভারী ক্রেন রাখা সম্ভব কি না, তা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ভস্কর্যটির সামনের অংশ বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এতদিন এখানে বেঞ্চে লোকজন বসলেও এখন সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পার্কের ওই অংশেও কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভারত সফরে যান মেসি। তার আগমন উপলক্ষে সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় মেসিকে মেসিকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হাজার হাজার দর্শক চড়া দামে টিকিট কেটেও মেসিকে দেখার সুযোগ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। গ্যালারির চেয়ার ও টানেলের ছাউনি ভাঙচুর এবং স্টেডিয়ামের কার্পেটসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে স্টেডিয়ামের বাইরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে ক্ষুব্ধ দর্শকের। এ ঘটনার জেরে রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এবার সরানো হচ্ছে মেসির ভাস্কর্যটিও।
ভাস্কর্যটি অন্য কোনো স্থানে প্রতিস্থাপন করা হবে কিনা, সেটাও এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।