চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় কথিত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশ জারি করেন তিনি। একই আদেশে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট বিষয়ে ছয় দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারকে ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের বাইরে থেকে আসা বৈধ অ্যাম্বুলেন্স বা স্বজনদের নিজস্ব গাড়িতে রোগী বা লাশ পরিবহনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে জড়িতরা চালকদের হুমকি, মারধর ও হেনস্তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বেআইনি বাধা দেওয়াসহ দণ্ডবিধি এবং সড়ক পরিবহন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে রোগী ও স্বজনেরা নিজেদের পছন্দমতো অ্যাম্বুলেন্স, ফ্রিজিং ভ্যান বা অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে পারেন। কোনো বৈধ গাড়ির প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের ছয় নির্দেশনা
হাসপাতাল চত্বরে বাইরের বৈধ অ্যাম্বুলেন্স বা স্বজনদের গাড়ি প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ভয়ভীতি ও হামলার অভিযোগ তদন্ত করতে হবে।
অবৈধভাবে সাইরেন ও নীল বাতি ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলা করতে হবে।
রোগী ও স্বজনদের অবাধ পরিবহনসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও সড়ক পরিবহন আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে।