মৃত্যুর পরও যে ১০ উপায়ে সওয়াব জারি থাকে
প্রতিকী ছবি
ইসলামে দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা কেবল অভাবী মানুষের উপকারই করে না, বরং দাতার আখিরাতের পাথেয় হিসেবে কাজ করে। তবে সব দানের মর্যাদা সমান নয়। কিছু দান এমন রয়েছে যার প্রতিদান মৃত্যুর পরও কবরে অব্যাহত থাকে। ইসলামি পরিভাষায় একেই বলা হয় সদকায়ে জারিয়া।
সদকায়ে জারিয়া কী?
‘সদকা’ অর্থ দান এবং ‘জারিয়া’ অর্থ প্রবহমান বা চলমান। অর্থাৎ এমন কল্যাণমূলক কাজ যার উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী এবং যার সওয়াব দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। পৃথিবীতে সেই স্থাপনা বা দানটি যত দিন থাকবে এবং মানুষ তা থেকে উপকৃত হবে, তত দিন দাতা কবরে এর সওয়াব পেতে থাকবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ: صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, কেবল তিনটি আমল ছাড়া— সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা থেকে মানুষ উপকৃত হয় এবং এমন নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম ১৬৩১)
সাধারণ সদকা ও সদকায়ে জারিয়ার পার্থক্য
অনেকেই এই দুটিকে এক মনে করেন, কিন্তু এদের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো স্থায়িত্ব
সাধারণ সদকা: কাউকে খাবার খাওয়ানো বা নগদ অর্থ দান করা। এর সওয়াব তাৎক্ষণিক এবং অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, কিন্তু এটি স্থায়ী নয়।
সদকায়ে জারিয়া: এতিমখানা, মাদ্রাসা বা মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া। যত দিন মানুষ এই স্থাপনা ব্যবহার করবে, তত দিন দাতার আমলনামায় সওয়াব যুক্ত হতে থাকবে।
সদকায়ে জারিয়ার সেরা ১০টি উদাহরণ
আপনি যদি নিজের বা মৃত আত্মীয়স্বজনের নামে স্থায়ী সওয়াবের কাজ করতে চান, তবে নিচের মাধ্যমগুলো বেছে নিতে পারেন—
১. মসজিদ নির্মাণ: আল্লাহর ঘর নির্মাণে সহায়তা করা।
২. বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা: নলকূপ বা পানির ট্যাংক স্থাপন।
৩. জ্ঞান প্রচার: দ্বীনি বই বা কুরআন মাজিদ বিতরণ।
৪. বৃক্ষরোপণ: ফলদ বা বনজ গাছ লাগানো যা মানুষ ও পশুপাখির উপকারে আসে।
৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা: মাদ্রাসা বা স্কুল তৈরি করা।
৬. চিকিৎসাসেবা: হাসপাতাল নির্মাণ বা চিকিৎসা সরঞ্জাম দান।
৭. কবরস্থানের জমি দান: দাফনকার্যে স্থায়ী সহায়তা।
৮. রাস্তা বা সরাইখানা নির্মাণ: জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো তৈরি।
৯. খাল বা নদী খনন: চাষাবাদ ও মানুষের পানির প্রয়োজন মেটানো।
১০. রক্তদান: মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্ত দেওয়াও একটি মহৎ সদকা।
সদকা কবুল হওয়ার শর্ত
সদকা কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো ইখলাস বা আন্তরিকতা। দান কখনো লোকদেখানো হওয়া উচিত নয়; বরং কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে।