‘দ্য ওডিসি’ নিয়ে মুখ খুললেন টম হল্যান্ডি
ছবিঃ সংগৃহীত।
বিশ্বজুড়ে তিনি ‘স্পাইডার-ম্যান’ নামেই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। কোটি কোটি ভক্তের প্রিয় এই হলিউড তারকা টম হল্যান্ড এবার হাজির হচ্ছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে।
হলিউডের মাস্টারমাইন্ড ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রতীক্ষিত মহাকাব্যিক সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’-তে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে ৩০ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সিনেমাটি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা এবং পর্দার পেছনের নানা মজার গল্প শেয়ার করেছেন টম।
হোমারের বিখ্যাত গ্রীক মহাকাব্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সিনেমায় টম হল্যান্ড অভিনয় করছেন রাজা ওডিসিয়াসের একমাত্র ছেলে ‘টেলেমেকাস’-এর চরিত্রে। টম বলেছেন, ‘এই বছর আমার বয়স ৩০ হলো। বাস্তব জীবনে আমি এখন বিবাহিত পুরুষ। তাই আমার মনে হয়েছে, পর্দায় কোনো ছোট ছেলে বা কিশোরের চরিত্রে অভিনয় করার এটাই হয়তো আমার শেষ সুযোগ। আর ক্রিস্টোফার নোলানের মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।’
সিনেমায় টম হল্যান্ডের বাস্তব জীবনের স্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেনডায়াও অভিনয় করেছেন দেবী ‘অ্যাথেনা’র চরিত্রে। তবে স্পাইডার-ম্যানের মতো এই সিনেমায় তাদের একসঙ্গে কোনো দৃশ্য নেই। টম হাসতে হাসতে জানান, নোলান যখন তাকে এই সিনেমার স্ক্রিপ্ট দিয়েছিলেন, তিনি গোপনে জেনডায়াকে সাথে নিয়েই তা পড়েছিলেন।
পরের দিন নোলান যখন টমকে জিজ্ঞেস করেন যে জেনডায়াকে এই চরিত্রে নিলে তার কোনো আপত্তি আছে কিনা, তখন টম বাড়ি ফিরে জেনডায়াকে সারপ্রাইজ দেন। খবরটি শুনে আনন্দের চোটে টম ও জেনডায়া দুজনে রান্নাঘরের ভেতরেই লাফাতে শুরু করেছিলেন!
সিনেমার খাতিরে টমকে বেশ ভালোভাবেই তলোয়ার চালানো শিখতে হয়েছে, যা তিনি বেশ উপভোগ করেছেন। বাস্তব জীবনে এই তলোয়ার চালনা কোনো কাজে লাগবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে রসিকতা করে টম বলেছেন, ‘বাসায় তো আর তলোয়ার রাখা যায় না! তবে যদি কখনো বাড়িতে চোর-ডাকাত ঢোকে, আমার একটা ক্রিকেটের ব্যাট আছে। ওটাকেই আমি তলোয়ারের মতো করে ঘুরিয়ে চালাতে পারব!’
সাক্ষাৎকারে জানা গেল এক চমকপ্রদ তথ্য। নোলানের আগের সিনেমা ‘ওপেনহাইমার’ সাতটি অস্কার জিতেছিল। কিন্তু নোলান যখন ‘দ্য ওডিসি’র স্ক্রিপ্ট লেখা শুরু করেন, তিনি তার টেবিল থেকে সব অস্কারের ট্রফি লুকিয়ে ফেলেন!
নোলান বলেছেন, ‘আমার সামনে যদি এতগুলো অস্কারের ট্রফি সাজানো থাকে, তবে নতুন কিছু লেখার সময় এক বিশাল মানসিক চাপ তৈরি হয়। অতীতে কী সাফল্য পেয়েছি, তা ভুলে নতুন করে শুরু করাই আমার অভ্যাস।’
নোলান তার সিনেমায় কোনো ভিএফএক্স পছন্দ করেন না। তাই এই সিনেমার জন্য আসল সমুদ্র, আসল বড় বড় জাহাজ এবং সমুদ্র সৈকতে এক বিশাল ব্রোঞ্জের ট্রোজান হর্স তৈরি করা হয়েছিল। সিনেমার ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো ছবি, যা সম্পূর্ণভাবে বিশালাকার আইম্যাক্স ক্যামেরা দিয়ে শুট করা হয়েছে।
সিনেমার মূল চরিত্র ওডিসিয়াস হিসেবে ম্যাট ডেমন এবং তার স্ত্রী পেনেলোপি হিসেবে অ্যান হ্যাথাওয়ের অভিনয় ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
আগামী ১৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী মুক্তির দিনেই ইংরেজি ছাড়াও নানা ভাষায় সিনেমাটি থিয়েটারে মুক্তি পাবে। নোলান ও টম হল্যান্ডের এই যুগলবন্দী দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সিনেমা প্রেমীরা।