বাগেরহাটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪২

বাগেরহাটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪২

প্রতিকি ছবি

বাগেরহাটে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার এবং জনসচেতনতার অভাবে জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পর্যন্ত জেলায় নতুন করে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত দুই মাসে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৩৬ জন।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। ওষুধ সেবনের পরও জ্বর না কমায় হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

আরেক রোগী আমেনা বেগম বলেন, এমন জ্বর আগে কখনো হয়নি। হাত-পায়ে শক্তি না থাকায় চলাফেরা করতে পারছিলেন না। পরে হাসপাতালে ভর্তি হলে পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

চারদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তবে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি।

চিকিৎসকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়ে যায়। গত মাসের তুলনায় চলতি মাস এবং আগামী আগস্টে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, সম্প্রতি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।

রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসক ও নার্সরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুল আলম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার বা নোংরা পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জ্বর দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।