ইরানের হামলার ভয়ে পুরনো দ্রুত তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প

ইরানের হামলার ভয়ে পুরনো দ্রুত তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প

ছবিঃ সংগৃহীত।

কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজের পরিবর্তে পুরনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে চড়েই তুরস্কের আকাশসীমা ত্যাগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া চরম উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন ট্রাম্প। তাই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস তাকে নতুন উড়োজাহাজে না চড়ার অনুরোধ করেন।

বুধবার রাতে তুরস্ক ছেড়ে যান ট্রাম্প। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এ ঘটনার পর নতুন উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নে উঠেছে। গত এক বছর ধরে তড়িঘড়ি করে বানানো হয় যানটি। এতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন সংশয় তৈরি হয়েছে। আইনপ্রণেতা এবং প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন যে, কম সময়ের মধ্যে বিমানটি প্রস্তুত করার কারণে এতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষার অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থা হয়তো সঠিকভাবে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

অবশ্য হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ‘নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান অত্যন্ত অত্যাধুনিক একটি বিমান। এতে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা প্রোটোকল যুক্ত রয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট এবং তার কর্মীদের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করে।’

তিনি জানান, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু রয়েছে। তাদের দৃষ্টি ট্রাম্পের ওপর। তাই আমরা সেসব হুমকি মোকাবিলায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও মনোযোগ সরানোর কৌশলসহ সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করি।’

তবে স্পর্শকাতর নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুন বিমানটির সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পুরনো বিমানের সব সুবিধা এখনো নতুনটিতে পুরোপুরি যুক্ত করা হয়নি। তারা জানান, তুরস্ক ছাড়ার সময় প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ বদলানো কেবলই সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ছিল। নির্দিষ্ট কোনো হামলার হুমকি থেকে এটি করা হয়নি।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গত সোমবার রাতে ট্রাম্প এই নতুন ও বিলাসবহুল বিমানে চেপেই তুরস্কে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি আসার পর পরই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত আবারও শুরু হয়। ট্রাম্প এবং ন্যাটো নেতারা যখন আঙ্কারা থেকে প্রায় ১ হাজার মাইল দূরে, তখনই ওয়াশিংটন ইরানের ওপর দফায় দফায় বিমান হামলা শুরু করে।

অবশ্য বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে নিরাপত্তার কারণে বিমান বদলানোর কথাটি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে নতুন ‘চমৎকার’ বিমানটি একটু আগেভাগে রওনা দিয়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যাত্রাবিরতি করতে পারে। পাশাপাশি ওখানকার সৈন্যরা বিমানটি ঘুরে দেখার সুযোগ পায়। তবে আঙ্কারায় সাংবাদিকদের ক্রমাগত প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প বারবার এটাও মনে করিয়ে দেন, তিনি নিজে ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। এমনকি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেহরানের তৈরি করা লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা তিনি দেখেছেন বা এ বিষয়ে তাকে ব্রিফ করা হয়েছে বলেও এক পর্যায়ে উল্লেখ করেন।

এর আগে বুধবার সকালে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেছিলেন যে, আঙ্কারা থেকে তিনি স্মৃতির খাতিরে পুরনো বিমানে ফিরবেন, যাতে নতুন বিমানটি ইংল্যান্ডের মিল্ডেনহল বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের প্রদর্শনের জন্য পাঠানো যায়। সিক্রেট সার্ভিস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা প্রেসিডেন্টের ওই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকেই অফিসিয়াল ব্যাখ্যা হিসেবে ধরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।