জাহাজ নির্মাণ খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগের আহ্বান নৌমন্ত্রীর
ছবি: ফাইল ফটো
বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক প্রকৌশল ও বন্দরভিত্তিক শিল্পের উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের অধিকতর বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধও জানান তিনি।
লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকের শুরুতে শেখ রবিউল আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য ওকেটিবি ও অন্যান্য ট্রানজিট এবং নাবিক-সংক্রান্ত ভিসা দ্রুত ও সহজতর করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা কামনা করেন।
শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প, সামুদ্রিক প্রকৌশল, বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং বন্দরভিত্তিক শিল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী বলেন, জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে দেশের ৪২টি জাহাজ পুনর্ব্যবহার ইয়ার্ডের মধ্যে ২৭টি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। বাকি ইয়ার্ডগুলোও ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে।
রবিউল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার (আইএমও) উদ্যোগকে বাংলাদেশ সমর্থন করে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পরিবহন, নৌপরিবহন, রেলপথ, বন্দর উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠক শেষে যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী।