বিশ্বকাপে সুপার কম্পিউটারের ফল কতটা মিলল, কোথায় চমকে দিল

বিশ্বকাপে সুপার কম্পিউটারের ফল কতটা মিলল, কোথায় চমকে দিল

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল কখনো শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়। যতই শক্তিশালী হোক কোনো বিশ্লেষণ, শেষ কথা বলে মাঠের ৯০ মিনিট। তবুও আধুনিক ফুটবলে তথ্য-পরিসংখ্যানের গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেটির বড় উদাহরণ অপ্টা সুপার কম্পিউটার। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকে প্রতিটি ধাপে সম্ভাবনার হিসাব কষে যে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, তার বেশিরভাগই এখন পর্যন্ত বাস্তবে মিলেছে। তবে কিছু অপ্রত্যাশিত ফলাফল আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবলে চমকের কোনো শেষ নেই।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ম্যাচের ফল, নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা এবং শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর পূর্বাভাস প্রকাশ করে আসছিল পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা। সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর সেই পূর্বাভাসের সঙ্গে টুর্নামেন্টের বাস্তব চিত্র মিলিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ হিসাবই ছিল যথেষ্ট নির্ভুল।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডকে সবচেয়ে শক্তিশালী শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে দেখিয়েছিল অপ্টা। সময়ের সঙ্গে ফ্রান্সকে সবচেয়ে বড় ফেবারিট ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত এই চার দলই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। ফলে সম্ভাব্য সেরা দলগুলো নির্বাচনের ক্ষেত্রে অপ্টার বিশ্লেষণ সফল হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নকআউট পর্বেও নিজেদের পূর্বাভাসের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে অপ্টা। কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচের বিজয়ী দল আগেই ঠিকভাবে অনুমান করেছিল সুপার কম্পিউটার। ফ্রান্স মরক্কোকে, স্পেন বেলজিয়ামকে, ইংল্যান্ড নরওয়েকে এবং আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডকে হারাবে। এমন পূর্বাভাসই দিয়েছিল তারা। শেষ পর্যন্ত চারটি ম্যাচেই সেই হিসাব মিলে যায়।

তবে সব জায়গায় সফল হয়নি অপ্টার মডেল। বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসকে অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনাময় দল হিসেবে ধরা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস প্রত্যাশার আগেই বিদায় নেয়। ব্রাজিলও শেষ ষোলো থেকে ছিটকে পড়ে, যা ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটন।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের একটি উপহার দিয়েছে নরওয়ে। তুলনামূলক কম সম্ভাবনা নিয়েও তারা শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসে। এই ফলাফল অপ্টার পূর্বাভাসের সঙ্গে মেলেনি এবং সেটিই ছিল বড় চমকগুলোর একটি।

বিশ্লেষকদের মতে, অপ্টা সুপার কম্পিউটার কোনো ম্যাচের নিশ্চিত ফল ঘোষণা করে না। এটি অসংখ্য সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনার শতকরা হিসাব তুলে ধরে। তাই পরিসংখ্যান একটি সম্ভাবনার চিত্র দিলেও ফুটবলে অঘটনের সুযোগ সব সময় থেকেই যায়।

তবুও ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপ্টার পারফরম্যান্সকে ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে। কারণ সেমিফাইনালে ওঠা চারটি দলকে আগেভাগেই সম্ভাব্য সেরা দল হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি কোয়ার্টার ফাইনালের সব ম্যাচের ফলও সঠিকভাবে অনুমান করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটির সুপার কম্পিউটার।