রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
ছবিঃ সংগৃহীত।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বলেন, ‘গুজবে বিশ্বাস করি না। পত্রপত্রিকা পড়ে তো আর রাজনীতির কথা বিশ্বাস করা যাবে না। আর এটা তো রাষ্ট্রপতির কথা। গুজব দিয়ে কিছু বলা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘পুরো বিশ্বই কোনো না কোনোভাবে গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জের মুখে। কিন্তু আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করেছি’।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনজবাবদিহিতা সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড সফরে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের আগেই সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার দেশে ফিরেছেন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তার আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা ছিল।
অন্যেদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে বঙ্গভবনের নির্ভরযোগ্য সূত্র স্টার নিউজকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দেশে ফেরার পরই তার কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র হস্তান্তরের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তার কার্যকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। এ সময়ে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকাল এবং পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ইতিহাস তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি একই মেয়াদে আলাদা সময়ে ৩ জন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোর দাবি উঠে আসছিল। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রদানকালে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে স্বহস্তে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে দাখিল করতে হয়।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করবেন। আর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।