যে ৩ আমলে আল্লাহ হাসেন

যে ৩ আমলে আল্লাহ হাসেন

ফাইল ছবি

একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় কামনা থাকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। কোরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা এসেছে, যেগুলো আল্লাহর বিশেষ সন্তুষ্টির কারণ। কিছু হাদিসে আরও এসেছে, নির্দিষ্ট কিছু আমলের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তাঁর শান ও মর্যাদার উপযোগীভাবে হাসেন। এই হাসির প্রকৃত ধরন একমাত্র আল্লাহই জানেন। তাই এ বিষয়ে কোরআন ও সুন্নাহয় যা এসেছে, তা-ই বিশ্বাস করা মুসলমানের কর্তব্য। এর বেশি কোনো ব্যাখ্যা বা তুলনা করা ঠিক নয়।

১. মেহমানকে নিজের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া

মদিনার এক আনসারি সাহাবির ঘরে খাবার ছিল খুবই অল্প। এমন সময় এক ক্ষুধার্ত মেহমান এলে তিনি ও তাঁর স্ত্রী নিজেদের অংশটুকুও মেহমানের জন্য রেখে দেন। বাতি নিভিয়ে এমনভাবে বসেছিলেন, যেন মনে হয় সবাই একসঙ্গে খাচ্ছেন। অথচ তাঁরা সেদিন না খেয়েই রাত কাটান।

পরদিন রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘গত রাতে তোমরা মেহমানের সঙ্গে যে আচরণ করেছ, তা দেখে আল্লাহ হেসেছেন (অথবা সন্তুষ্ট হয়েছেন)।’ (সহিহ বুখারি: ৩৭৯৮)

মুফাসসিরদের মতে, আনসারদের এই আত্মত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সুরা হাশরের ৯ নম্বর আয়াত নাজিল হয়, যেখানে তাদের মহানুভবতার প্রশংসা করা হয়েছে।

২. আরামের বিছানা ছেড়ে তাহাজ্জুদে দাঁড়ানো

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ হাসেন। তাঁদের একজন সেই ব্যক্তি, যার আরামদায়ক বিছানা ও প্রিয় স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সে রাতের বেলায় ঘুম ছেড়ে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়। তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেখো, আমার এই বান্দা নিজের আরাম ছেড়ে শুধু আমার সন্তুষ্টির জন্য ইবাদতে দাঁড়িয়েছে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ১৬০৩২)

নিঃশব্দ রাতে একান্তে আল্লাহর ইবাদতে দাঁড়ানো তাঁর কাছে কতটা প্রিয়, এই হাদিসে তারই চিত্র ফুটে উঠেছে।

৩. কঠিন পরিস্থিতিতেও অটল থাকা

হাদিসে এসেছে, যুদ্ধের ময়দানে কঠিন পরিস্থিতির মুখেও যে মুমিন পিছু হটে না এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে, আল্লাহ তার প্রতি হাসেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ২৫৫৯)

এই হাদিস থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কঠিন পরিস্থিতিতেও সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

আমাদের করণীয়

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ শুধু বড় কোনো আমলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তরিকতা, আত্মত্যাগ, গোপন ইবাদত এবং মানুষের উপকারে এগিয়ে আসাও তাঁর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সুযোগ পেলেই নেক আমল করা, মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো এবং নির্জনে আল্লাহর ইবাদতে সময় দেওয়া আমাদের অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। এসব আমল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।