সাপোজিটর ব্যবহার করলে কি অজু ভেঙে যায়?

সাপোজিটর ব্যবহার করলে কি অজু ভেঙে যায়?

ফাইল ছবি

ইসলামে ইবাদতের মতো মানুষের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়াদিও অত্যন্ত চমৎকারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে । অসুস্থতার সময় চিকিৎসকের পরামর্শে অনেককেই জ্বর, তীব্র ব্যথা কিংবা খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণের জন্য সাপোজিটর ব্যবহার করতে হয়।

আর ইসলামে অজু ভঙ্গের মূল কারণ হলো শরীর থেকে নাপাক বস্তু বের হওয়া; শরীরের ভেতরে কোনো বস্তু প্রবেশ করানো নয়। তাই এ বিষয়ে শরয়ি বিধান জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াতে চাও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘অজু আবশ্যক হয় যা শরীর থেকে বের হয় তার কারণে; শরীরে যা প্রবেশ করে তার কারণে নয়।

’ (সুনানে বাইহাকি, হাদিস : ৫৮০)

ইমাম কাসানী (রহ.) বলেন, অজু ভঙ্গের মূল কারণ হলো জীবিত মানুষের শরীর থেকে নাপাক বস্তু বের হওয়া। তা স্বাভাবিক পথ দিয়ে হোক বা অন্য কোনো স্থান দিয়ে হোক। কিন্তু শুধু কোনো বস্তু শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানোর দ্বারা অজু ভঙ্গ হয় না। এ কারণেই জ্বর বা ব্যথা উপশমের জন্য মলদ্বার দিয়ে সাপোজিটর প্রবেশ করানো মাত্র অজু ভেঙে যায় না।

কারণ এখানে শরীর থেকে কোনো নাপাক বস্তু বের হয়নি; বরং একটি ওষুধ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করেছে।

তবে যদি সাপোজিটর প্রবেশ করানোর সময় বা বের করার সময় মলদ্বারের ভেতর থেকে মল, নাপাক রস বা অন্য কোনো নাপাক বস্তু বের হয়ে আসে, তাহলে অজু ভেঙে যাবে। কারণ অজু ভঙ্গের কারণ হলো সেই নাপাক বস্তু বের হওয়া, সাপোজিটরি ব্যবহার করা নয়। (বাদায়েউস সানায়ে, ১/২৪)

হানাফি ফিকহের গ্রন্থ আল-মুহিতুল বুরহানি-তে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি মলদ্বারে তুলা বা অন্য কিছু এমনভাবে রাখে, যাতে কোনো নাপাক বস্তু বাইরে বের না হয়, তাহলে তার অজু ভঙ্গ হবে না। কারণ নাপাক বস্তু প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত তা শরয়ি অর্থে হাদাস হিসেবে গণ্য হবে না।

’ (আল-মুহিতুল বুরহানি, ১/৫৭)

একইভাবে রদ্দুল মুহতার-এ ইবন আবিদীন (রহ.) উল্লেখ করেন, যদি প্রবেশ করানো কোনো বস্তুর সঙ্গে ভেতরের আর্দ্রতা, নাপাকির চিহ্ন বা দুর্গন্ধ বের হয়, তাহলে অজু ভেঙে যাবে। আর যদি এসবের কিছুই না থাকে, তাহলে অজু ভঙ্গ হবে না। যদিও সতর্কতার জন্য নতুন করে অজু করা উত্তম বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

ফকিহগণ আরও বলেন, যদি কোনো বস্তু সম্পূর্ণভাবে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে আবার বের হয়ে আসে, তাহলে তার বিধান পৃথক হতে পারে। কিন্তু সাপোজিটরির ক্ষেত্রে সাধারণত ওষুধ শরীরের ভেতরেই গলে যায় বা শোষিত হয়। ফলে কেবল তা প্রবেশ করানোর দ্বারা অজু ভঙ্গ হওয়ার কোনো কারণ সৃষ্টি হয় না।

অতএব, জ্বর, ব্যথা বা অন্য কোনো রোগের চিকিৎসার জন্য সাপোজিটর ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ। এর দ্বারা অজু ভেঙে যায় না। তবে ব্যবহারকালে যদি ভেতর থেকে মল বা অন্য কোনো নাপাক বস্তু বের হয়ে আসে, তাহলে অজু পুনরায় করতে হবে। আর যদি কোনো নাপাকি বের না হয়, তাহলে পূর্বের অজুই বহাল থাকবে এবং সেই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করা বৈধ হবে।