টাকা-পয়সার বিরোধে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, ২ ঘণ্টায় আসামি গ্রেপ্তার

টাকা-পয়সার বিরোধে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, ২ ঘণ্টায় আসামি গ্রেপ্তার

ছবি: প্রতীকী

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দুই বন্ধুর মধ্যে টাকা-পয়সার দেনা-পাওনা নিয়ে তর্কবিতর্কের জেরে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম হীরা (৪০) নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই ঘণ্টার মধ্যে কামরুল ইসলাম ফকির (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে গোয়ালন্দঘাট থানার তোড়ার মোড় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। গ্রেপ্তার কামরুল ইসলাম ফকির গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের মৃত ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে।

নিহত শরিফুল ইসলাম হীরা গোয়ালন্দ উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকার মো. জাবেদ আলীর ছেলে। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার তোরাই মোড়-কাজীপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে টাকা-পয়সার দেনা-পাওনা নিয়ে হীরা ও কামরুলের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে কামরুল ছুরি দিয়ে হীরাকে আঘাত করেন। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছোরাটি ঘটনাস্থলে ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় হীরাকে তার স্ত্রী সামছুন নাহার মুক্তাসহ পরিবারের সদস্যরা গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের স্ত্রী সামছুন নাহার মুক্তার এজাহারের ভিত্তিতে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ও রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা এলাকা থেকে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আজ দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে রাজবাড়ীর সিজিএম আদালতের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইনের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।